জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের স্থায়ী পরিষদের সদস্য দেশগুলোর যে কোনও একটি দেশ যদি কোনও বিষয়ে ভেটো দেয় তবে তা বস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। যা একটি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এটা সংস্কার করা দরকার। তাই আগামী অধিবেশনে এ বিষয়টি সংস্কার করতে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিতে পারে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের গণহত্যা ও নির্যাতন প্রসঙ্গে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘পাঁচ পরাশক্তি থাকবে কি, থাকবে না তাও চিন্তা করা দরকার। মিয়ানমারে চীনের অর্থনৈতিক জোন করার জন্য বিনিয়োগ রয়েছে। তাই তাদের স্বার্থে জাতিসংঘ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তা হওয়া উচিত নয়। জাতিসংঘকে গণতান্ত্রিক হতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রাষ্ট্রের, কিন্তু মানবাধিকার সার্বজনীন। জাতিসংঘে গণতন্ত্রের চর্চা থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘চীনের মানবাধিকার কমিশনের কাছে আমরা গত সেপ্টেম্বরে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা চিঠির জবাব দিয়েছে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের কথা তারা স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য ও মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য ভিন্ন।’
মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিতাড়ণে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারেই সেফ জোন তৈরি করতে হবে। সেখানেই যাচাই-বাছাই করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সব দেশের পক্ষ থেকে চাপ দিতে হবে।’
রিয়াজুল হক বলেন, ‘মিয়ানমার বাংলাদেশকে যুদ্ধের প্রভোকেশনে ফেলতে চায়। তাই তারা আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ধৈর্য ধরেছে। কারণ বাংলাদেশ শান্তি চায়।’
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে, তাদের মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করছে। এ কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে।’
রিয়াজুল হক কামিশনের সুপারিশ তুলে ধরে আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করতে হবে।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চলমান নির্যাতন বন্ধ, মিয়ানমারের অভ্যান্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাফার জোন তৈরি, জাতিসংঘের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশে বসবাসরত ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রদান, নাগরিত্ব দেওয়াসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে প্রবেশ করছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা (ছবিতে)
জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের আটকের প্রতিবাদে শিবিরের তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ








