ইউনিলিভারের হাত ধোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়াকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে দাবি করেছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা। তার দাবি, ‘স্কুলে বড় কোনও প্রোগ্রাম হলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। দুই একজন বাচ্চা (শিশু) অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
ইউনিলিভারের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা মিডিয়া হাউজ মাইন্ড শেয়ারের কর্মকর্তা ক্ষিতিশ পাল বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি হাত ধোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অচেতন হয়ে পড়ার বিষয়ে মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যেটা হয়েছে, আমি আপনাকে বলি। আমি শেষ পর্যন্ত ভেতরে ছিলাম। আমরা আজকে কোনও জার্নালিস্টকে আমন্ত্রণ জানাইনি। আপনি কী ইনফরমেশন নিয়ে এসেছেন, তা আমি জানি না। আমি শেষ পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। দুই তিনজন বাচ্চা (শিশু) অসুস্থ হয়েছে। তাদের সুস্থ করে আবার গাড়িতে করেই বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘রেকর্ড গড়ে গিনেজ বুকে জায়গা পাওয়ার জন্য এই অ্যাক্টিভিটিজ হয়েছে। এখানে সাড়ে দশ হাজারের ওপরে বাচ্চারা (শিশু) অংশ নিয়েছে। সেখানে কয়েকজন বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে।একটা স্কুলে অ্যাক্টিভিটিজ হলে বা বড় কোনও প্রোগ্রাম হলে,যদি দুই তিনঘণ্টা অনুষ্ঠান চলে, রোদের ভেতরে অনেক সময় দুই একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর আমাদেরটা তো ছিল একটা বড় প্রোগ্রাম।’
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি ও রিকশায় করে রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠ থেকে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় কিছু মেয়ে শিক্ষার্থীদের অচেতন নিয়ে আসা হয়। এসময় কয়েকজনের অভিভাবকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
এদের মধ্যে বিএডিসি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা নাম মো. মোতালেব তার অচেতন মেয়েকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে আসেন।
তিনি বলেন, ‘রেসিডেন্সিয়ালের মাঠে রাজধানীর একশ’র বেশি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশ প্রোগ্রাম ছিল। সকাল থেকে এই প্রোগ্রাম ছিল। রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেকেই মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। আমার মেয়েও অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তাকে তাই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।’
এসময় মেয়ে শিক্ষার্থীদের অচেতন অবস্থায় এ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামাতে দেখা যায়। তাদের হাসপাতালের ট্রলি ও কোলে করে জরুরি বিভাগের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক অভিভাবককে উদ্বিগ্ন দেখা গেছে জরুরি বিভাগের সামনে। অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ওই হাসপাতালে দুপুরে চিকিৎসা নেয়।
এবিষয়ে দুপুরেই বাংলা ট্রিবিউনে শিক্ষার্থীদের ছবিসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। খোলামাঠে, কড়া রোদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
যদিও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও শিক্ষার্থী কেউ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।
শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি তিনিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের ১১ হাজার ১৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ইউনিলিভার তাদের একটি প্রোগ্রামের জন্য আমাদের মাঠে এনেছে। সকাল সাতটা থেকে তাদের প্রোগ্রাম শুরু হয়েছিল। পরে সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে আমার সামনেই তিনজনকে পড়ে যেতে দেখেছি। তখন ইউনিলিভারেরই মেডিক্যাল টিম ছিল তারাই তাদের একটু সুস্থ করে আবার অনুষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছে। মোট কতজন অসুস্থ হয়েছে তা আমার জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্কুলের একজন শিক্ষার্থীও এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। কারণ,ওদের পরীক্ষা চলছে। ইউনিলিভার শুধুমাত্র আমাদের মাঠ ব্যবহার করেছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এ সংক্রান্ত আগের সংবাদ: ইউনিলিভারের ‘হ্যান্ডওয়াশ প্রোগ্রামে’ অংশ নিয়ে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী
ছবি : আমানুর রহমান রনি।








