মানবতাবিরোধী অপরাধ: ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের রায় যেকোনও দিন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৩১আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৫৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা ও গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে যেকোনও দিন রায় দেওয়া হবে বলে মামলাটি অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ থেকে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করা হয়। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর  ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ও শেখ মোশফেক কবির। আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী খন্দকার রেজাউল ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

মামলায় আব্দুল আজিজ ছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলেন- মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), মো. আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। মামলায় ছয় আসামির মধ্যে মো. আব্দুল লতিফ ছাড়া বাকি পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।

পরে প্রসিকিউটর  ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রায় সব অপরাধের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে কঠিন যে অভিযোগ, সেটি হলো বুদ্ধিজীবী হত্যার পরে এই প্রথম একটি এলাকাকে পুরো নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য ১৩ জন সাবেক এবং রানিং চেয়ারম্যান, মেম্বারকে ডেকে নিয়ে ক্যাম্পে আটক রেখে এক সঙ্গে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এ সাক্ষীদের কোনোভাবেই ডিসপিউট করতে পারেনি।’

দালিলিক ও মৌখিক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে এ আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রসিকিউটর সুমন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী তামিম সাংবাদিকদের বলেন,  ‘এই মামলায় তিনটি অভিযোগ ছিল। রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি অভিযোগ প্রমাণে যে সব সাক্ষী হাজির করেছে, তার অধিকাংশের বয়স ছিল ১৩/১৪ বছর। একাত্তর সালে এ সাক্ষীরা ছিল নাবালক। একজন নাবালক বা ১৩/১৪ বছরের  সাক্ষীর পক্ষে এ ধরনের ঘটনা বর্ণনা করা অবিশ্বাস্য।’

আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ মাত্র দুটি ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে। তার মধ্যে একটি ২০০১ সালের এবং আরেকটি হলো ২০০৭ সালের পত্রিকার প্রতিবেদন। আমরা বলেছি, এরা রাজনৈতিক নেতা ছিল।  নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে ওই রিপোর্ট করা হয়েছিল। কিন্তু পত্রিকায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। সুতরাং আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপক্ষ এসব আসামিদের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আশা করছি, ট্রাইব্যুনাল থেকে আমরা খালাস পাবো।’

এর আগে গত ৯ মে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন  শেষে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন।

এরপর রায় ঘোষণার আগেই বিচারপতি আনোয়ারুল হক মৃত্যুবরণ করায় রায়টি পিছিয়ে যায়।

পরে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

এরপর গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় ফের (আর্গুমেন্ট) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২২ অক্টোবর দিন ঠিক করে দেন পূনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল। এরপর দুই দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হলো।

আসামি আজিজসহ গাইবান্ধার ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ওই বছরের ২৩ নভেম্বর প্রসিকিউশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় মাত্র একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে ঘোড়ামারা আজিজসহ সব আসামিকে পলাতক দেখিয়েই আদালতে মামলার বিচারিক কাজ শুরু হয়।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল আজিজ মিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পযর্ন্ত চার দলীয় জোটের অধীনে জামায়াত থেকে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ ১৩টি মামলা হয়।সুন্দরগঞ্জ থানা শাখার জামায়াতের সক্রিয় সদস্য রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জুর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া, উপজেলা জামায়াত নেতা আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মানবতাবিরোধী অপরাধসহ তিনটি মামলা হয়। পরবর্তীতে এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।

দীর্ঘ দিন পর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সেলিম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুনর্গঠনের পর ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ (সোমবার)একটি মামলা সিএভি করা হয়েছে।’

আরও বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ইস্যু করা আছে। এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে নিয়মিত একটি প্রতিবেদন আমাদের দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আসামি গ্রেফতার করার দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ আমাদের বলছে, আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ তারা নিয়মিতই ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে যাচ্ছে বলেও জানান রেজিস্ট্রার মো. সেলিম মিয়া।

 

 

/এজেডকে/এসএনএইচ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম