দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৬০ শতাংশ মানুষই বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে ‘স্টেট অব দ্য মার্জিনালাইজড ইন বাংলাদেশ-২০১৬:এক্সপেরিয়েন্স অব মার্জিনালাইজেশন, এক্সক্লুশন অ্যান্ড রাইটস ভায়োলেশন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সংগঠনটির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়ছে, ২০১৬ সালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষ গড়ে দুইবারের বেশি বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এছাড়াও ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারের সদস্যরা শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন আর মূলধারার মানুষের দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন শতকরা ৩২ শতাংশ প্রান্তিক মানুষ। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়,‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাত্র ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ফর্মাল সেক্টরে নিয়োজিত, সরকারি চাকরির সুযোগ কম, ৩৯ শতাংশ পরিবারের কোনও জমি নেই, ৩৬ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সারাবছর খাদ্য সংকটে থাকে।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজশাহী অঞ্চলের ১৫৪টি পরিবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে এবং আরও ৪৪টি পরিবার দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন, ‘বলা হয় দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পিছিয়ে রয়েছে। আসলে তাদেরকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, রাজনৈতিকসহ সব ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের জমি দখল, হত্যা, ভোট দিতে বাধ্য করা, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা, কম দামে জিনিস বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এসব কারণে তারা নিজেরাও নিজেদের মানুষ ভাবতে ভুলে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন,‘আমাদেরকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে রাষ্ট্রকে বারবার আঘাত করে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেই আন্দোলনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তাদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে রুখে দাঁড়ানোর প্রশিক্ষণ দিতে হবে।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমানে দেশের সুশীল সমাজ কোনও কাজ করছে না। কারণ, তাদের কথার এখন কোনও দাম দিচ্ছে না রাষ্ট্র। এক সময় রাষ্ট্র সুশীল সমাজের কথার গুরুত্ব দিয়ে পলিসি নির্ধারণ করতো। এখন তা আর হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুঁজিবাদীদের কাছে ধরনা দিচ্ছি। আসলে পুঁজিবাদের চরিত্রই হলো মানুষকে শোষণ করা।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।








