দেশের অভিবাসন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ১০ ব্যাক্তি, দুইটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংকে (বিএমইটি) ‘সোনার মানুষ’ সম্মাননা দিলো রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী আয়োজন শেষে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তারা ‘সোনার মানুষ’দের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কারের চেক তুলে দেন।
এ আয়োজনে অভিবাসী শ্রমিক, সেরা রেমিটেন্স পরিবার এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের অভিবাসীদের সেবাদানকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মানিত করা হয়। এর মধ্যে ‘সোনার মানুষ সেবা’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ডিসট্রিক্ট এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ম্যানপাওয়ার অফিসের (ডেমো) সহকারী পরিচালক আমেনা পারভীন, ডেমো’র সহকারী পরিচালক রাহিনুর ইসলাম, বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (বিকেটিটিসি) মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ‘সোনার মানুষ’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মো. নেওয়াস শরিফ, মো. এমদাদুল হক ও আলহাজ্জ্ব মো. শাহজাহান। সেরা রেমিটেন্স ব্যবহারকারী পরিবারের পুরস্কার পেয়েছেন ফিরোজা খানম। অভিবাসী খাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ‘সোনার মানুষ’ সেবা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নিখিল চন্দ্র পাল, সানোয়ার হোসাইন ও রাজেদা আকতার। এর বাইরে ‘সোনার মানুষ বিশেষ সেবা’ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংকে (বিএমইটি)। আর ‘সোনার মানুষ সেবা’ অ্যাওয়ার্ড পাওয়া দুই রিক্রুটিং এজেন্সি হলো— ন্যাক ইন্টারন্যাশনাল ও সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল।
অভিবাসীদের যথাযথ সেবা ও মর্যাদা দেওয়া এবং এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামরু ২০২০-৩০ সময়কে অভিবাসী দশক ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ‘অভিবাসন ভিশন ২০৩০’ দ্রুত প্রণয়নেরও দাবি জানায় সংস্থাটি। জাতীয় অর্থনীতিতে অভিবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি এবং রেমিট্যান্স পাঠানো ও তার সঠিক ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে তৃতীয়বারের মতো রামরু ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ও রেমিট্যান্স উৎসবে’র আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রামরু’র চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
সকালে উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অভিবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সিনিয়র সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা রাখেন রামরুর পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেরিনা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অভিবাসন খাত তৈরি পোশাক শিল্পের তিনগুণ এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সাতগুণ বেশি। দক্ষ ও মেধানির্ভর জনশক্তি রপ্তানি করে রেমিটেন্সের প্রবাহ আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে নতুন নতুন শ্রমবাজার খোঁজা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই।
বিকালে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘অভিবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকেই মূলত আমাদের দেশের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ আসে। সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক সংকটের মুহূর্তে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন আমাদের প্রবাসী ভাই ও বোনেরা।’ অভিবাসন সংশ্লিষ্ট পুরনো আইন সংশোধনের চিন্তা সরকারের মাথায় আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্নীতি ও জটিলতার কারণে অভিবাসীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘নতুন নতুন শ্রমবাজার তৈরি করতে সরকার ব্যাপক কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের সার্বক্ষণিক সহায়তা ও সেবাদানের লক্ষ্যে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে আরও বেগবান করার উদ্যোগ নিয়েছে।’







