নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে কারো কোনও উদ্বেগ বা আপত্তি থাকলে সে বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তা লিখিত আকারে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার জন্য টেলিভিশন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, এখনও সময় আছে, আইনের বিভিন্ন বিষয়গুলো সংশোধন করার। সে ক্ষেত্রে লিখিত পেলে সংশোধন আকারে আইনটি পাশ করার চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স (এটিসিও) নেতৃবৃন্দ ও তাদের মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালে এ আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সংগঠনের সভাপতি সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, দেশ টিভিরেউপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে টেলিভিশনগুলো কাজ করেছে। আগামীতেও করবে।
পরে প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী ইনু।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক ও হয়রানিমূলক কোনও বিষয় থাকলে তা পরিহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার। এসময় তিনি বলেন, সম্পাদকদের আমরা আশ্বস্ত করেছি যে সদ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির খসড়াটি গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর। এরপরেও এই আইনের কোথাও যদি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য উদ্বেগজনক ও হয়রানিমূলক কোনও বিষয় থেকে থাকে তবে তা পরিহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।
বৈঠকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি বাঙালিয়ানা রক্ষায় শুদ্ধ উচ্চারণে সংবাদসহ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার জন্য ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলোর মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়াও গণমাধ্যমগুলোকে দেশের স্বার্থরক্ষায় সংবিধানের চার মূল নীতি অনুসারে সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচারের পাশাপাশি আগুন সন্ত্রাস, ধর্মান্ধচক্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীচক্রের বিরুদ্ধে প্রচারণার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।








