নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদন দিতে দেরি হলে বিমানযাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হবে মন্তব্য করে কমিটি দ্রুত রিপোর্ট শেষ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিকে কমিটি বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের বিমান ফ্লাই করার আগে যান্ত্রিক বিষয়টি ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নেপালে বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি তাদের বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন না হওয়ায় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নেপালে বিমান দুর্ঘটনা ১৫ দিনের বেশি হয়ে গেছে। এখন আধুনিক যুগ। তদন্তে এত বেশি সময় লাগার কথা নয়। কমিটি মনে করে, তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন না হওয়ায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন দিতে যত বেশি সময় লাগবে, তত বেশি গুজব ছড়াবে। এজন্য কমিটি দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বলেছে।’
কমিটি বিমান পরিচালনায় সতর্ক থাকার কথা বলেছে উল্লেখ করে ফারুক খান জানান, সরকারি বা বেসরকারি যে বিমানই হোক না কেন, তা ফ্লাই করার আগে তাদের যান্ত্রিক ও কারিগরিসহ সব বিষয়গুলো যেন সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।
উড়োজাহাজের যান্ত্রিক এবং না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে বলেছেন,বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি মালিকানাধীন এই বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে নেপাল সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই তদন্তে বাংলাদেশ সরকারও সহযোগিতা করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।
বৈঠকে ২০১৮ সালে হজ পালনকারীদের বিমানের টিকিট সময়মতো সরবরাহ করতে কমিটি সুপারিশ করে।
ফারুক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কমিটি সদস্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ.কে.এম. শাহ্জাহান কামাল, অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল আশরাফ খান এবং সাবিহা নাহার বেগম অংশগ্রহণ করেন।








