সপ্তমবারের মতো হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে। শনিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের প্রবীণ ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পীদের নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
প্রভাতে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণের গাণ ‘এসো হে বৈশাখ’। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এক হাজার শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা আর বাপ্পা মজুমদারের গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান শ্রোতারা।
সকাল ৮টা থেকে ভিড় বাড়তে থাকে অনুষ্ঠানে। প্রচণ্ড রোদে দর্শক-শ্রোতার আগ্রহের ঘাটতি দেখা যায়নি। কাগজের পাখা আর ক্যাপ পরে গরম তাড়ানোর চেষ্টা করেন শ্রোতারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ।
সুরের ধারা পর্ব শেষে দর্শক মাতাতে একে একে মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী খুরশিদ আলম, রফিকুল আলম, রথীন্দ্রনাথ রায় ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যান্য শিল্পীরা। এছাড়া নবীন শিল্পীদের পরিবেশনা ছিল উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে র্যাবের একটি হেলিকপ্টার এসে আকাশ থেকে দর্শকদের উদ্দেশে নববর্ষের শুভেচ্ছা লিফলেট বিরতণ করে। এই লিফলেটে মাদক ও জঙ্গিবিরোধী প্রচারণাও চালানো হয়।
সকাল ১০টার দিকে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় ফ্যাশন-শো। এরপর এলআরবি ও আইয়ুব বাচ্চুর পরিবেশনায় ব্যান্ড-শো অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে অনুষ্ঠান উপলক্ষে বৈশাখের পিঠাসহ নানা ধরনের খাবারের আয়োজন ছিল স্টলগুলোতে। বাঙালি ঐতিহ্যের ৫০টি স্টলের ব্যবস্থা ছিল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
আয়োজকরা জানান, আগের দিন বাংলা ১৪২৪ বর্ষের বিদায় ও চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই আয়োজন। এ উপলক্ষে রাতে বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাউল শিল্পী ও আধুনিক গানের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় ১৪২৫ বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা।








