ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রাথমিকভাবে এখন ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দুই ব্লকের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়।
আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৫টায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও কলকাতা ও আগরতলা থেকে এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।
নরেন্দ্র মোদি ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি মেগাওয়াট থেকে গিগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার এই মুহুর্তকে দুই দেশের সম্পর্কের সোনালী প্রতীক বলে অভিহিত করেছেন। মোদি বলেছেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রফতানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আগে বাংলাদেশে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানি করতো ভারত এখন এই পরিমাণ এক দশমিক ছয় গিগাওয়াটে উন্নীত হলো।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানিতে মোদির সহায়তা চান। শেখ হাসিনা বলেন, ভারত থেকে আমরা আরও তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু দেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এজন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশকে আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে সম্মত রয়েছে পশ্চিম বাংলা। এর আগেই শেখ হাসিনাকে তার এই আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে বলেন, এজন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। কেন্দ্র অনুমোদন দিলে পশ্চিম বাংলা এই বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ভিডিও কনফারেন্সে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশ এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করা হয়।
এই উপলক্ষে গণভবনে বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস ও রেলসচিব মোফাজ্জল হোসেন দুইটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সরবরাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেও গত রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত বারোটার পর থেকেই ভারত থেকে বাড়তি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সরবরাহ শুরু হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের দুই ব্লকের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়। রবিবার রাত ৮টায় ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনের প্রথম ব্লক দিয়ে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল। এরপর নতুন নির্মিত দ্বিতীয় ব্লক দিয়েও ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ আসতে শুরু করে। রাত ঠিক ১২টায় দুই ব্লক মিলিয়ে মোট ৫৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়। এরপর তা বেড়ে ৭৮০ মেগাওয়াটে গিয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইন দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াও ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছিল। ভেড়ামারা প্রান্তে আরও ৫০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ায় ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ালো ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াটে। তবে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে পুরো বিদ্যুৎ নিচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ নিচ্ছে। গতকাল পিডিবির পক্ষ থেকে ভেড়ামারা প্রান্তে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাওয়া হয়। সে হিসেবেই এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ভারত।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব জানান, ভারত থেকে আসা এই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৭১ পয়সা ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২০১৩ সালে ভারত থেকে প্রথম ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। এজন্য ভেড়ামারা এবং বহরামপুরে ব্যাক টু ব্যাক সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়। প্রথম সাবস্টেশনটির ক্ষমতা ছিল ৫০০ মেগাওয়াট। এখন একই জায়গাতে একই ক্ষমতার দ্বিতীয় আরেকটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সাবস্টেশন দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এছাড়াও ত্রিপুরা থেকে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। দেশের কুমিল্লা দিয়ে এই বিদ্যুৎ আসছে।








