নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকটের সমাধান না এলে বিপদে পড়বে দেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:৪৫আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:৪৭

বৈঠকিতে অতিথিরা

নির্বাচন সামনে রেখে সরকারবিরোধী দলগুলোর জাতীয় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এদিকে, বিএনপির সঙ্গে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যের উদ্যোক্তাদের বোঝাপড়া না হওয়ায় ঐক্যে এখনই অনৈক্যও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই। আবার রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেরই আশঙ্কা, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে সংকট চলছে তা উৎরাতে না পারলে দেশ বিপদে পড়বে অচিরেই।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘ঐক্য নিয়ে অনৈক্য’ শীর্ষক বৈঠকিতে ঘুরে-ফিরে এসব কথাই বলেছেন আলোচকরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিওতে শুরু হয় বাংলা ট্রিবিউনের সাপ্তাহিক এই আয়োজন। এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে অংশ নেন দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এবং বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক মুন্নী সাহা বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আপনাদের জন্য শেষ কথা বলে দিয়ে গেছেন কোনও এক অতিথি। কে কাকে অনুসরণ করেন তা আমরা বুঝতে পারছি না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনীতিবিদরা পার পেয়ে যান কথা বলে।’

সঞ্চালকের এ কথার সূত্র ধরে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাতের উদ্দেশে বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল প্রশ্ন রাখেন, ‘আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলছেন, ঐক্য প্রক্রিয়া একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। আপনারা কেন এটা মনে করছেন না? একইভাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে অন্য দলগুলোর দেওয়া শর্ত গ্রহণযোগ্য হলে তা মানতে আপত্তি কোথায় আপনাদের?

প্রথম প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘বর্তমানে একটা ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। আর তা হলো জিতে গেলে নির্বাচন ভালো হয়েছে, হেরে গেলে নির্বাচন খারাপ। এই মানসিকতা আগে ছিল না, এটা নতুন। বিএনপির আজকের বিধ্বস্ত অবস্থা তাদের অতীত পাপের ফল। তাদের নেতৃত্ব আজ জেলে, তাদের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব আজ ফেরারি আসামি। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরীসহ সবাই মিলে ত্রাণকর্তা হিসেবে বিএনপিকে বাঁচানোর জন্য, তাদের নির্বাচনে আসার রাস্তা তৈরি করছেন। এটা ষড়যন্ত্র না তো কী? তারা (ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরী) যদি গণতন্ত্র, সুশাসন, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির জায়গা থেকে একটা শক্তি দাঁড় করায়, তাকে আমরা স্বাগত জানাতে রাজি আছি। কিন্তু তারা বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে আসছে, আবার বিএনপির হাত ধরে জামায়াতও আসছে।’

দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, ‘স্বীকৃত স্বৈরাচারীকে নিয়ে আওয়ামী লীগ যখন ১৪ দলীয় জোট করলো, তখন আমরা কিছু বলেনি। এখন আমরা যখন জাতীয় ঐক্যের জন্য জোটবদ্ধ হচ্ছি, তখন নানা সমালোচনা চলছে। এর কারণ – জাতীয় ঐক্য নিয়ে সরকার আতঙ্কিত। গণতন্ত্রে ডাকাত পড়েছে বলে আমরা ঐক্য করতে চাই। ব্যক্তি স্বার্থে নয়; আমরা জাতীয় স্বার্থে এটা করতে চাই। বিএনপিকে ইচ্ছা করলেই ফেলে দেওয়া যাবে না। গত বছরগুলোতে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। তারপরও বিএনপি টিকে আছে। আধমরা করে পানিতে ফেলে দিলে সাঁতার কাটা যায় না। পায়ে শিকল দিলে হাঁটা যায় না।’

বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘দেশ যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার হাত থেকে মানুষ পরিত্রাণ চায় বলে আমরা জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছি। তবে বিএনপি জামায়াতকে রেখে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় আসলে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।’

আযম খানের কথার জবাবে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ –এই দুই দলের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। আযম ভাই বললেন যে, স্বীকৃত স্বৈরাচারকে আওয়ামী লীগ সঙ্গে নিয়েছে। যেহেতু স্বীকৃত স্বৈরাচারকে আওয়ামী লীগ সঙ্গে নিয়েছে, অতএব স্বীকৃত রাজাকারকে সঙ্গে নেওয়া যেন বৈধ হয়ে গেলো। ২০ দলের যদি প্রতিনিধিত্ব করে বিএনপি তার মানে তারা জামায়াতেরও প্রতিনিধিত্ব করে। বিএনপি যদি জামায়াতকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যে আসতে চায়, আমিও দেখবো ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীরা এটাকে কিভাবে অনুমোদন করেন।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘আজকের নির্বাচনকেন্দ্রীক সংকট সংঘাত আশঙ্কায় রূপ নিচ্ছে। এ সংকট নতুন নয়। এটা আমরা ২০০৬ সালে দেখেছি। ১৯৯৫-৯৬ সালেও এটা দেখেছি। তার মানে এই যে, একটা সংকট রোগ বারবার ফিরে আসছে। এর তো একটা উৎস আছে। সেটা খুঁজে বের করতে হবে। আমরা মনে করছি, বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রীক সংকট সংঘাতের মধ্যদিয়ে সমাধানে যাবে। আর না হয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে একটা শান্তিপূর্ণ পথ বের করে সমঝোতার মধ্যদিয়ে এ সংকটের সমাধান আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় না গেলে দেশে উগ্রবাদের জন্ম হবে। আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, তারা প্রতিপক্ষ ঠিক করবে, প্রতিপক্ষের রাজনীতিটা কেমন হবে –এটাও ঠিক করবে, তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, এ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমার আহ্বান, জামায়াতে ইসলামিকে বাদ দিয়ে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের উত্তরণ ঘটাক আওয়ামী লীগ।’

দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন বলেন, ‘এই ঐক্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, দেখা যাক। ঐক্যটা এখনও পরিষ্কার নয়। মাহী একটা স্ট্যান্ড নিয়েছেন, জামায়াতকে বাদ দিতে হবে বিএনপির। এখন বিএনপি জামায়াকে বাদ দেয় কিনা দেখা যাক।’

 

/এসও/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের