দীর্ঘ সময় পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কক্ষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছেন চার কমিশনার। গত ৩০ আগস্টের পর তাদের বৈঠক হয়নি বলে কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু সিদ্ধান্তসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সিইসি ও ইসি সচিবের সঙ্গে ভিন্নমতের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের দীর্ঘ আলোচনার পর ইসি সচিবালয় একটি অফিস আদেশ জারি করেছে। এতে ইসি সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় আইন ও বিধিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিশনের মান-অভিমান ভেঙেছে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা।
কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে গিয়ে প্রায়শ আলোচনার রেওয়াজ ছিল। তবে ৩০ আগস্ট কমিশনে ইলেকট্রনিক ভোটিং ম্যাশিন (ইভিএম) নিয়ে আরপিও সংস্কার সংক্রান্ত বৈঠকের পর সিইসির কক্ষে আর ঘরোয়া বৈঠক হয়নি বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা। প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার বিকালে সিইসির কক্ষে চার নির্বাচন কমিশনার একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ইসি সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বিধি-বিধান, রীতি, পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে জানিয়ে আদেশে বলা হয়, ‘কিছু কিছু কার্যক্রম পরিচালনায় ইসি সচিবালয় আইন ও কার্যপ্রণালী বিধিমালার বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে; যা ৪ নির্বাচন কমিশনারের নজরে এসেছে। এ সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রতিপালন করে ইসি সচিবালয়ের সব কাজ পরিচালনার জন্যে নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা দিয়েছেন’। আইন-বিধি যুক্ত করে এ অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, শাখা হতে কোনও বিষয়ে নথি উপস্থাপনকালে তা কোন পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে তা নথিতে উল্লেখ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন বরাবর কোন নথি উপস্থাপন হবে তা কার্যপ্রণালী বিধির তফসিলে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বরাবর উপস্থাপিতব্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে এ বিধির ৩(৫) অনুসরণ করতে হবে। মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব বরাবর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগ উঠেছিল, ইসি সচিবালয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব ছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারদের অবহিত করা হয় না। কিছু কিছু কার্যক্রমে ‘বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে’ উল্লেখ করে চার নির্বাচন কমিশনার আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোট দিয়েছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা ছিল পিউরলি (পুরোপুরি) ঘরোয়া আলোচনা। আমরা অনেক ইস্যু নিয়ে নিজেরা আলোচনা করেছি। আপনারাই আমাদের বিষয়টি (ইউও নোট) নিয়ে অস্বস্তি দেখছেন। আসলে আমরা তো অস্বস্তিতে নেই। আগেও অনানুষ্ঠানিকভাবে এভাবে আমরা বসতাম; আজও বসেছি।’
ইসি কর্মকর্তারা জানান, কিছু বিদেশি সাংবাদিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও বৈঠকের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তবে তাদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।








