নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কলেবর বৃদ্ধির কোনও চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক দীপক দেবের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চারদিকে অনেক বড় বড় জোট-মহাজোট হচ্ছে। এসবের মধ্যে আমাদের জোটের কলেবর বাড়ানোর তেমন কোনও চিন্তা নেই। এরপরেও কেউ যদি আমাদের সঙ্গে আসতে আগ্রহী থাকে, তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে পারি।’
এ সময় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনও ফর্মুলা নেই। সংবিধানে বলা আছে প্রতি ৬০ দিন অন্তর সংসদ অধিবেশন বসার জন্য। তবে নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি শিথিল থাকে। তখন আমরা সংসদ বহাল রেখে কীভাবে নির্বাচন আয়োজন করা যায় সে বিষয়ে কথা শুরু করেছি। আমাদের জোটের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনাও নেওয়া হবে।’
নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব দেশে পার্লামেন্টারিয়ান ডেমোক্রেসি রয়েছে তাদের সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সরকার যেভাবে থাকে সেভাবে রেখেই পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসে নির্বাচন আয়োজন করে। তবে কোনও কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হলে তারা সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে। এটাই আসলে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত নিয়ম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই নিয়মেই নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে ক্যাবিনেট ছোট করে নিয়ে কাজ করা হবে। কারণ, নির্বাচনের সময়ে আরপিও অনুযায়ী চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা থাকে।’
এ সময় চলতি সংসদের ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের সংসদ অন্য যেকোনও সংসদের চেয়ে ভালো ছিল। কারণ, এবার কোনও গালিগালাজ নাই, নোংরা কথা নাই, কোনও অঙ্গভঙ্গি নাই। বরং গঠনমূলক, সুস্থ এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ছিল। এ কারণে জনগণ এই সংসদের প্রতি অনেক বেশি আস্থাশীল।’








