দেশের হাওর এলাকার হতদরিদ্র নারীদের কর্মস্থান সৃষ্টির জন্য ‘হাওড় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য আয় ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ গ্রহণ করেছে সরকার। হাওড় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারী সমাজের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভাসমান বীজতলা ও বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ, হাঁস প্রতিপালন করে নারী-পুরুষ বৈষম্যহীন পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মিলনায়তনে ‘হাওড় এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য আয় ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমিন বেনু, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের পরিচালক আতাউর রহমান, কর্মসূচি পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে হাওর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য আয় ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের নারীদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার হাওর অধ্যষিত এলাকায় আগাম বন্যার ফলে উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং এই এলাকার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। বন্যার হাত থেকে মুক্ত করে ওই সব এলাকার পিছিয়ে পড়া নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয় ও কর্মসংস্থান করা হবে।’
নাছিমা বেগম বলেন, ‘এই কর্মসূচি হলো একটি ইনোভেটিভ কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে শুধু হতদরিদ্র মানুষ দরিদ্রমুক্ত হবে না, পাশাপাশি এলাকার মানুষ অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত ও টাটকা শাকসবজি খেতে পারবে।’
উল্লেখ্য, এ প্রকল্প চার জেলার মোট ২৮টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মেয়াদ ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।








