রোহিঙ্গা নারীদের যৌন নিপীড়নের ক্ষত সারাতে কাজ চলছে: প্যাটেন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:২২আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:০৯

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মিয়ানমার সেনাদের যৌন নির্যাতনের ক্ষত যাতে রোহিঙ্গা নারীরা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে সে জন্য অংশীজনদের নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন যুদ্ধের সময় যৌন নিপীড়ন বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্যাটেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো নারীদের ওপর পরিচালিত যৌন নিপীড়ন। এই নিপীড়নের অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে রোহিঙ্গা নারীরা যেতে এগিয়ে যেতে পারে সে জন্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে কাজ করছি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে রোহিঙ্গা নারীরা দ্রুত তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত সারিয়ে উঠেতে পারে।’

এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা যত্নশীল। তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে।’

পরে এ সাক্ষাতের বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই বৈঠকে প্রমীলা প্যাটেনকে তিনি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলোতে নিরাপদে আছে। তাদের ফেরত পাঠানোসহ সব ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গারা যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ছিল তখন সেখানে ব্যাপক যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে যা অনেকেই জানেন ও দেখেছেন। সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট’র (sexual violence in conflict)  বিষয়ে  আমাদের এই মুহুর্তে কোনও সমস্যা নেই।

তিনি জানান, জাতিসংঘের মহাসচিবের ওই বিশেষ প্রতিনিধিকে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। বাকি সব ইস্যুও আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা এ ব্যাপারে সব পর্যায়ে আলাপ-আলোচনাও করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ট্রমা কীভাবে কমানো যায়, তারা এখানে কীভাবে একটু স্বস্তিতে থাকতে পারেন সে ব্যবস্থাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোহিঙ্গাদের প্রতি যে সহানুভূতি সেটা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। পাচারের ব্যাপারে কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছিল সেগুলোও আমরা শক্ত হাতে মোকাবিলা করেছি এবং এগুলো এখন খুব একটা ঘটছে না। আমি এখন এটুকু বলতে পারি আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে এক পুলিশ ফাঁড়িতে আরসা’র হামলার অভিযোগ তুলে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অভিযানের মুখে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ সেনা অভিযানকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধান ও মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহিংসতার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করেছে।

/এসআই/টিটি/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম