জাতীয় পার্টিকে এখনও গৃহপালিত বিরোধী দল আখ্যায়িত করা হয় বলে আক্ষেপ দলটির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর। তিনি বলেন, ‘গত মেয়াদে জাতীয় পার্টি একইসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে ছিল। তখন অনেকে বলতেন, জাপা গৃহপালিত বিরোধী দল। এখন তো জাতীয় পার্টি শুধু বিরোধী দলে, তাও বলে গৃহপালিত বিরোধী দল। আমরা যাবো কোথায়?’
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক এসব কথা বলেন।
মুজিবুল হক দাবি করেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হতে পারেনি বলে এসব কথা বলা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। যা বলার সংসদে এসেই বলবে। সংসদ সদস্যের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংসদ বর্জন করবে না।’
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এইচ এম এরশাদের শাসনামলকে স্বৈরশাসন হিসেবে উল্লেখ করেন। এর সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, ‘তখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল বলে স্বৈরশাসক বলা হচ্ছে। যখন সঙ্গে থাকে, তখন ভালো লাগে, যখন থাকে না; তখন স্বৈরশাসক হয়ে যায়।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করে বিরোধী দলের এ এমপি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণকে স্বতস্ফূর্তভাবে সমর্থন করা যাচ্ছে না। এ ভাষণ একপেশে। শুধু সরকারের অর্জন ও সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের সমস্যা, দুর্ভোগের বিষয়ে কিছু নেই। এসব বিষয়ে সমাধানের রূপকল্প থাকলে ভাষণ পূর্ণাঙ্গ হতো।’
আর্থিকখাতে অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, ‘ব্যাংকিংখাতে রক্তক্ষরণ চলছে। কিন্তু, এ খাতের নিয়ন্ত্রণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের হাতে।’
সড়ক পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে মুজিবুল হক বলেন, ‘সড়ক, যানবাহন, চালক—এই তিন নিয়ামকের কোনোটাই ঠিক নেই। ফিটনেস ছাড়া গাড়ি চলছে, ৪৭ শতাংশ চালক ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সে গাড়ি চালায়, দেখার কেউ নেই। রাজধানীতে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নেই।’
অন্যদের মধ্যে সরকারি দলের কাজী কেরামত আলী, মৃনাল কান্তি দাস, আফতাব উদ্দীন সরকার, নেছার আহমেদ, মোহাম্মদ সাহিদুজ্জমান, সংরক্ষিত আসনের আরমা দত্ত প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।








