বাজেটে আঞ্চলিক বরাদ্দে বৈষম্য রয়েছে: বিআইপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ মে ২০১৯, ১৯:১৯আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ১৯:৩০

সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় বাজেটে আঞ্চলিক বরাদ্দে বৈষম্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি বলছে, আমাদের সংবিধানে আঞ্চলিক উন্নয়ন সমতা নিশ্চিতকরণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত বিআইপির অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় বাজেটে আঞ্চলিক উন্নয়ন ভাবনা: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অঞ্চলভিত্তিক বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

বিআইপির সহ-সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ‘বিগত কয়েক বছরের জাতীয় বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বরাদ্দে আঞ্চলিক প্রভেদ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্য হ্রাস পেলেও আঞ্চলিক পর্যায়ে দারিদ্র্য নিরসনের গতি সব অঞ্চলে সমান নয়। কিছু অঞ্চল বেশ পিছিয়ে রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বিভাগের মধ্যে খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীতে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশি। তবে দক্ষিণ-পূর্ব বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে কম।’

ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘দেশে প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়লেও একইসঙ্গে বাড়ছে আয়-বৈষম্য। ফলে উত্তরের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সংবিধানে আঞ্চলিক উন্নয়ন সমতা নিশ্চিতকরণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা স্থায়িত্বশীল ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি নাগরিকদের মধ্যে সমতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করে।’

তিনি জানান, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট বরাদ্দের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শতকরা ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে ঢাকা বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগ পেয়েছে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অপরদিকে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের পরিমাণ যথাক্রমে ১০ দশমিক ১২, ৮ দশমিক ২০, ৪ দশমিক ৬০, ৪ দশমিক ১৮, ৩ দশমিক ৫৩ এবং ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈষম্য শুধু বিভাগগুলোর মধ্যে বিদ্যমান নয়, বিভাগে অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলোর মধ্যেও বিদ্যমান। বাংলাদেশের জেলাগুলোতে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অতিউচ্চ বৈষম্য রয়েছে (গিনি মান সহগ ০.৫৯)। দেশের মধ্যাঞ্চল তুলনামূলকভাবে বরাদ্দের বেশিরভাগ অংশ পেয়ে থাকে। ঢাকা জেলা মোট এডিপি বরাদ্দের শতকরা ২১ শতাংশ পায়; যা সর্বোচ্চ। আর চট্টগ্রাম ১০ শতাংশ ও গোপালগঞ্জ ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ পেয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়া জেলাগুলো হচ্ছে– নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর এবং বগুড়া। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া জেলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা এবং কিশোরগঞ্জ।

সমস্যা সমাধানে সুপারিশ

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ হিসেবে তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও প্রকল্প অনুমোদনে অঞ্চলভিত্তিক সাম্যের ধারণা ও বাজেট বরাদ্দে তার প্রতিফলন থাকা উচিত। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলাকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন দিতে হবে।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, ‘সরকারের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলো সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত করে এই অঞ্চলগুলোকে বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করার মাধ্যমে অগ্রসর হতে চেষ্টা করা উচিত। পক্ষপাতকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনকে বিবেচনা করার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়কে সীমিত পর্যায়ে রাখার মাধ্যমে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।’

বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক ও পরিকল্পনাবিদ ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা মাথায় রেখে বাজেট বরাদ্দ করা হলে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব এবং এ ধরনের গবেষণা ফলাফল গণমাধ্যমের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক মহলের সামনেও উপস্থাপন করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বিআইপি’র সহ-সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ঘনত্বের দিক থেকে পুরো দেশটিকে নগর হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বরাদ্দ বিশেষ বিশেষ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে সেক্টরভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ দেখানো হলেও এক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রতিবেদনে অনুপস্থিত। সমগ্র দেশকে নিয়ে এগোতে হলে জেলা এবং বিভাগভিত্তিক তথ্য নিয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।’

 

/এসএস/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের