তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও নির্বিঘ্নে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও ঈদগাহ ময়দান ছিল পরিপূর্ণ।
জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদের জামাতের সময় নির্ধারিত ছিল সাড়ে ৮টায়। বৃষ্টির কারণে সময় পেছাতে হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নামাজের ব্যবস্থা রাখা হলেও সেটি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়। তারা ঈদগাহের ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
বুধবার (৫ মে) সকাল থেকেই ঈদগাহের দিকে আসতে থাকেন মুসল্লিরা। নামাজ শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এতে নামাজ নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত মুসল্লিরা ভালোভাবেই নামাজ আদায় করেছেন। মুসল্লিদের জন্য এই বিঘ্নহীন আয়োজন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সময় লেগেছে ১৫ দিন।
নামাজের পর কথা হয় নাজমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি রামপুরা থেকে আসেন নামাজ পড়তে। তিনি বলেন, ‘যখন বৃষ্টি শুরু হয়, ভেবেছিলাম ভিজে ভিজে নামাজ পড়তে হবে। কিন্তু একটুও ভিজতে হয়নি, এমনকি মাঠে পানিও আসেনি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ঈদগাহের ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু হয়েছে।’
সেগুনবাগিচার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম নামাজ হয়তো সময়মতো শুরু হবে না। বায়তুল মোকাররমে স্থানান্তর হবে। কিন্তু একমুহূর্তের জন্য কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। যারা আয়োজন করেছেন, আসলেই প্রশংসার দাবিদার।’
কাঁটাবন থেকে জাতীয় ঈদগাহে আসেন মফিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠের ঠিক শেষ লাইনে নামাজ আদায় করেছি। নামাজের জায়গার বাইরে পানি জমেছিল। আমি ধারণা করেছিলাম, পানিতে জায়নামাজ ভিজে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বৃষ্টি হলেও নির্বিঘ্নে নামাজ পড়তে পরেছি, এতেই আমরা সন্তুষ্ট।’
ঈদগাহের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ১৫ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। যেহেতু ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম, তাই শুরু থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। মাঠ প্রস্তুত করার সময়ও কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন আমরা আরও ভালোভাবে দেখে নিতে পারলাম ত্রিপল বা শামিয়ানার কোথাও কোনও লিক আছে কিনা। মাঠে যেন পানি না জমে এজন্য ড্রেনেজ লাইন ছিলে, ফলে কোথাও পানি জমেনি। সব মিলিয়ে আমরা সর্বোত্তম আয়োজনের চেষ্ট করেছি।’
এবার জাতীয় ঈদগাহে ৮৪ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। নারীদের জন্যও ছিল পৃথক ব্যবস্থা, যেখানে একসঙ্গে ৫ হাজার নারী নামাজ আদায় করতে পারবেন।
সকালে বৃষ্টি শুরু হলে মুসল্লিদের মধ্যে ছোটাছুটি পড়ে যায়। কেউ কেউ আশ্রয় নেন আশপাশের গাছের নিচেও। শেষ পর্যন্ত ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে নামাজের জামাতে শরিক হন তারা।
জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের জন্য ৩টি গেট নির্মাণ করা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে ময়দানের বাইরে গেটগুলোর মুখে কিছুটা পানি জমতে দেখা যায়। তবে ঈদগাহ ময়দানে নামাজের সময় পানি জমার কোনও অভিযোগ কেউ করেনি।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বৃষ্টি প্রতিরোধক ত্রিপল ছিল ২৫ হাজার ৪০২ বর্গমিটার। শামিয়ানা ছিল ৩ হাজার ৫৫ বর্গমিটার। ত্রিপলের ওপর কাপড় ও পাটের মেট ছিল ২২ হাজার ৫৯৫ বর্গমিটার। ময়দানের মাঠে কার্পেট ছিল ১ হাজার ৯৪ বর্গমিটার। জায়নামাজ ছিল ৬০টি। এছাড়া ৭০০টি সিলিং ফ্যান, ১০০টি প্যাডেস্টেল ফ্যান এবং মিম্বারের কাছে ১০টি এয়ারকুলার রাখা হয়। টিউব লাইট ছিল ৭০০টি। ঝড়ো বাতাসে সুরক্ষা দিতে বাঁশ দিয়ে প্রতিরক্ষা বা প্রটেকশন নির্মাণ করা হয় ৮০০ মিটার। একসঙ্গে ১৪০ জনের ওজু করার ব্যবস্থা ছিল ময়দানে। মোবাইল টয়লেট ছিল ১টি।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








