দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগে এখন পর্যন্ত কতজন মারা গেছেন তার সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই সরকারিভাবে ডেঙ্গু রোগে মৃতের সংখ্যা ১৪ বলা হলেও বেসরকারি তথ্য বলছে, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার (৩ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা পরিস্থিতি দেখার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আবারও একই তথ্য দিয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি এমন তথ্য সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানালে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত হয়ে পরে সঠিক সংখ্যা জানাবেন বলে জানান।
জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের পরিদর্শন শেষে এ রোগে মৃতের সংখ্যা ১৪ জন বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকরা তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেন, শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন ও বিএসএমএমইউ-তে দুই জন মারা গেছেন। এর বাইরেও ঢাকার অন্যান্য হাসপাতাল এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকরা বাকি মৃতের সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আরও ভালোভাবে জেনে আমি পরে জানাবো।’
বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অর্ধ শতাধিক। ঢাকার হাসপাতালগুলোসহ দেশের বাইরের হাসপাতালে মারা যাওয়া রোগীদের সংখ্যা ধরেই এই হিসাব করা হচ্ছে গণমাধ্যমগুলোতে।
জাহিদ মালেক বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে ওষুধ আনা হচ্ছে। ওষুধের কোনও সংকট হবে না। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে দুই লাখ কিট আনা হয়েছে। সুতরাং কোথাও পরীক্ষার সমস্যা হবে না।’
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়টি দেখার জন্য গঠিত সেল কাজ করছে। তারা তদারকি করছে।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্যানিকড হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৫০ লাখ ডেঙ্গু শনাক্তের কিট আমদানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই লাখ চলে এসেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবার ঈদের ছুটি বাতিল করেছি। সিটি করপোরেশন ভালো কাজ করছে। মশা কমানো গেলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও কমে যাবে। চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, আমরা সব করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা দিন-রাত কাজ করছেন। এজন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। আমরা রোজ মনিটর করছি। ডাক্তার নার্সের অভাব নেই। সবাই মিলে চেষ্টা করছি। সে কারণে মৃতের সংখ্যা কম। অন্যান্য দেশে যদি দেখেন, সেখানে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি। ফিলিপাইনে শত শত লোক মারা গেছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে। বিশ্বে এমন দেশ খুব কম আছে, যেখানে ডেঙ্গু নেই।’
বিএসএমএমইউ’র পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।
আরও পড়ুন...
ডেঙ্গু মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী








