জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ২০১৯ সালের পরীক্ষার ফল জিপিএ-৪ (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-৪) প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ হচ্ছে না। এবারও জিপিএ-৫ প্রক্রিয়ায় ফল নির্ধারণ করা হবে। তবে ২০২০ সাল থেকে জিপিএ-৪ প্রক্রিয়ায় ফল প্রকাশ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আগামী ২ নভেম্বর থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
জিপিএ-৪ চালু হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কথা বলেছি, এই পরীক্ষা থেকে জিপিএ-৪ কার্যকর হচ্ছে না। আগামী বছর যে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে, সেই পরীক্ষা থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ‘জিপিএ-৫’ (গ্রেড পয়েন্ট অ্যাভারেজ-৫) এর বদলে ‘জিপিএ-৪’ প্রক্রিয়ায় চালু করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে দীপু মনি জানিয়েছিলেন ২০২০ সাল থেকে ‘জিপিএ-৪’ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ওই দিন শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে জিপিএ-৫ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কাজ করছে। এই প্রবণতা রোধ করতে হবে। এছাড়া, জিপিএ-৫ ধরে ফল প্রকাশ করায় বিদেশে চাকরির বাজারেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।’
জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০১০ সালে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিমাণগত ও গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ বছরে শিক্ষার্থী বেড়েছে দ্বিগুণ।’
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান,এবারও পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসতে হবে। অনিবার্য কোনও কারণে দেরি হলে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে শিক্ষা বোর্ডকে প্রতিবেদন দিতে হবে।
শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধীরা পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অটিস্টিক, ডাইন সিনড্রম, সেলিব্রালপলসি জনিত প্রতিবন্ধীরা ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবে।
পরীক্ষাচলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যবহারের অনমুতি ছাড়া যেকোনও ইলেকট্রোনিক্স ডিভাইজ ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
দীপু মনি বলেন, ‘আসন্ন জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টির চেষ্টাকারী প্রতারকদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে।








