বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত মার্চে ঢাকা আসার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে সেই সফর বাতিল করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক হবে ডিসেম্বরে। যে কোনও শীর্ষ সম্মেলনের আগে অনেক ধরনের প্রস্তুতি থাকে এবং জনগণের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে এ বিষয়ে প্রত্যাশা থাকে। কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ‘সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইন’ নতুন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্র বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক।
সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইন
কোভিড-১৯-এর কারণে অন্যান্য সব দেশের মতো এই অঞ্চলের দেশগুলোও অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। বিভিন্ন খাতে সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইন চিহ্নিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই লাভবান হতে পারে বলে মনে করেন শহীদুল হক।
(সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইনের বিষয়টা এমন- বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন হয়, আর ভারত ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন করে। এক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যেতে পারে। আবার বাংলাদেশে পাট উৎপন্ন হয়, যা ভারতের কারখানাগুলো নিতে পারে। শিল্পক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতা।)
এটি নতুন ধরনের সহযোগিতা জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘খাত চিহ্নিত করে সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি ওষুধ শিল্পের জন্য হতে পারে, অথবা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্যও হতে পারে।’
বর্তমান সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইনের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখন তুলা আমদানি করি মধ্য এশিয়া বা আমেরিকা বা অন্য জায়গা থেকে। কিন্তু এ খাতে যদি সাপ্লাই অ্যান্ড ভ্যালু চেইন প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে সবাই উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, ‘মূল্য সংযোজন করতে হলে আঞ্চলিকভাবে করা ভালো। এক্ষেত্রে ভারত কতটুকু সাহায্য করতে পারে সেটির একটি দিকনির্দেশনা থাকলে ভালো হয়।’
তিনি মনে করেন, শিল্পের সঙ্গে সম্পর্ক হতে পারে। পাটের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। ভারতের পাটকলগুলো ভালো করছে। এই প্রক্রিয়াটি ভ্যালু চেইনের মধ্যে আনা যায় কিনা দেখতে হবে।
পানি সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হচ্ছে পানি এবং এ বিষয়ে নতুন উদ্যোগের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন শহীদুল হক।তিনি বলেন, পানির হিস্যার পাশাপাশি এর পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করাটাও জরুরি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি করার পরে আমরা পানি পেয়েছি। কিন্তু এই পানি আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। এ ধরনের বিষয়গুলো নতুন উদ্যোগ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।’
বন্যা ব্যবস্থাপনা একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শুধু পানি প্রবাহের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে বন্যা ব্যবস্থাপনা করলে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে।’
বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন
কিছু ভৌগোলিক জায়গা যেমন বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবনকে ঘিরে নতুন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন সাবেক ওই সচিব। তিনি বলেন, ‘স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধশালী বঙ্গোপসাগর আমরা সবাই চাই। এক্ষেত্রে যৌথভাবে কিছু করা যায় কিনা সেটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসতে পারে।’
সুন্দরবন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাঘ সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যৌথভাবে আরও কিছু করা যেতে পারে। যেমন সেখানকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, মাছ বা অন্য কিছু নিয়ে গবেষণা হতে পারে।’
যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন
প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পরিমাণ সীমিত এবং এ বিষয়ে অনেক সুযোগ আছে বলে মনে করেন শহীদুল হক।
তিনি বলেন, ‘এই খাতকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভারতের টেকনোলজি সেন্টারগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরি করা, যার মাধ্যমে যৌথভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এছাড়া জয়েন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম তৈরি করা যায়।’







