মুজিববর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী- দুই সুবিশাল মহান উদযাপনে নেওয়া হয়েছে ১০ দিনের কর্মসূচি। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সার্কভুক্ত পাঁচটি দেশের সরকারপ্রধানরা। আর এই দশ দিনে দেশের সুনাম নিয়ে দারুণ সতর্ক সরকার। সেটা যেন ক্ষুন্ন না হয়, তা নিয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে নাগরিকদের। সরকারের পক্ষে এ অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি)।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও এ সময় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচিগুলোয় অংশ নিতে হবে। বিদেশি অতিথিরা যেসব অনুষ্ঠানে উপিস্থিত থাকবেন সেসব অনুষ্ঠানে কেবল আমন্ত্রিতরাই থাকবেন। বাকিদের অহেতুক ভিড় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানমালা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়ভাবে পালিত হবে। তাতে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। ছুটি না নিতেও মৌখিকভাবে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ দোকান-মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে ১৭ মার্চ দেশের সব দোকান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। তবে খাবার হোটেল, ফার্মেসি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার খোলা থাকবে। আলোকসজ্জার জন্য দোকান মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০ দিনের এসব অনুষ্ঠানে দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হবে। অনুষ্ঠানসূচিতে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। উপস্থিত থাকতে পারবেন নির্ধারিত ৫০০ জন দর্শক।
জানা গেছে, বিদেশি অতিথিরা থাকবেন সোনারগাঁও হোটেলে। তারা যখন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন তখন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ না করতে বিভিন্ন দলগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি বলেছে, এ সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে হবে। পূর্বঘোষিত কোনও কর্মসূচি থাকলে সেগুলোও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠানও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
দেশের সুনাম রক্ষায় আগের নির্ধারিত সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো ২৭ মার্চের পর আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক বন্ধ রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের চলাচলের সুবিধার জন্য। এতে দেখা দিতে পারে যানজট। নগরবাসীকে তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না আসার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, যারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতার ঘোষণা দিয়েছে, আশা করা হচ্ছে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। দেশবিরোধী বা দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মসূচি থেকে তারা যেন নিজেদের বিরত রাখেন। তারপরও কেউ যদি নাশকতা করার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ শক্ত হাতে আইনি ব্যবস্থা নেবে। অহেতুক আড্ডা ও গণজমায়েত বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছে ডিএমপি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রীয় অতিথিরা থাকবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যেই ব্লকরেইড শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ ছাড়া ভিভিআইপি অতিথিদের মুজিববর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যাতায়াত, উৎসবে যোগদানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানিয়েছেন, রমনা এলাকায় যাতে মুজিববর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তীতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশও সতর্ক। এ সব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।









