গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ জানুয়ারি ২০১৬, ১৯:৩০আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৬, ২১:২৬

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ বাক-স্বাধীনতা হরণের দেশ, সাংবাদিক নির্যাতনের দেশ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি এবং রেডিওগুলো এ ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে।

মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারও কোনও কটাক্ষ সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে। পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের কোনও স্থান এ দেশে হবে না।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ না করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি দলের নেত্রী ও তার নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেওয়া ৩০ লক্ষ শহীদের কটাক্ষ করেছে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অপমান করেছে। আমি এই ঘৃণ্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।  এদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। জনগণকে বলব এদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য গড়ে তুলুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
সরকারের ভবিষ্যত কর্মপকিল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করা, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। সরকারের সুদূরপ্রসারি কর্মপরিকল্পনার সুফল ইতোমধ্যেই জনগণ উপভোগ করছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’

বিপথগামীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

‘বাঙালি জাতি শান্তিপ্রিয় জাতি, সন্ত্রাস সহিংসতায় বিশ্বাসী নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ যখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে তখন পরাজিত শক্তি আবারও অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দু’জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা এবং একজনকে আহত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ থাকবে, মত প্রকাশ করবে। কাউকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। বিপথগামীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর হবো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করা ‍যাবে না

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির আসল  উদ্দেশ্য হলো জঙ্গিবাদ উসকে দেওয়া, যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, রাজাকার-আলবদরদের রক্ষা করা। আমাদের ওয়াদা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি, রায় কার্যকর করা হচ্ছে, কেউই বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না, জনগণ তাদের প্রতাখ্যান করেছে।

প্রবৃদ্ধি হবে ৭ শতাংশ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে টানা সাত বছর ধরে আমরা দেশ পরিচালনা করছি। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন জিডিপি’র ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.৫১ শতাংশ। গত ৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ। আশা রাখি এই অর্থবছরেই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

দেড় কোটি মানুষের চাকরি

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের শেষ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। এখন বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। অতি দারিদ্র্যের হার এখন  ৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেড় কোটি মানুষের চাকরি দিয়েছি। ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৮ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.২ বিলিয়ন ডলারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ৩২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৪ হাজার ৩২ মেগাওয়াট। ১২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করেছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাবো ইনশাল্লাহ।

২০১৮ সালে পদ্মা সেতুতে যান চলবে

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ খাতে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়াল সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ অচিরেই শেষ হবে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। মাওয়া ও জাজিরাকে ঘিরে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তুলব। শিবচর, মাদারিপুর, শরীয়তপুর ও কেরানিগঞ্জ জেগে উঠবে নতুন উদ্যমে। সরকার নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা সড়ক এবং ঢাকা-চট্রগ্রাম এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে। নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতালক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছি। অচিরেই জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন

তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট আমলে বাংলাদেশ ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য-শস্য উৎপাদন হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে চতুর্থ। আমরা এখন চাল রফতানি শুরু করেছি।

প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাখাতে সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০১-এ বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। দেশের বর্তমানে শিক্ষার হার ৭১ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার ৭ বছরে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ১৯২ কোটি বই বিতরণ করেছে। এবছরের পহেলা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭২২ টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। প্রাথমিক থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপ-বৃত্তি আওতায় আনা হয়েছে। যে সব উপজেলায় সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই সে সব উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণ করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

বিনামূল্যে ৩২ পদের ওষুধ

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। মানুষ বিনামূল্যে ৩২ পদের ঔষধ পাচ্ছে। এ পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়েছি। আরও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। গড় আয়ু এখন বেড়ে হয়েছে ৭১ বছরের বেশি। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে। নতুন ১১টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সব দরিদ্র পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

২০১৬ সালেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন

প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ হাজার ২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজারের বেশি। আশা করছি ২০১৬ সালেই মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন করা হবে। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে এবং যশোরে হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহরে সিলিকন সিটি স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করেছি যা আর্ন্তজাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়। ইন্টারনেট ব্যবহারে এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। থ্রিজি সেবা চালু করা হয়েছে। এবছরই ফোর-জি চালু করা হবে। দেশের ৮ হাজার পোস্টঅফিসকে ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার সহায়তায় ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প ‘রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র’ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

সংসদ সব উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছি। বর্তমানে সংসদে সুষ্ঠু পরিবেশে আলোচনা হচ্ছে। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ, তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিমত দিচ্ছেন, আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধি ১২৩ ভাগ

নতুন বেতন স্কেল সম্পর্কে তিনি বলেন, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সামরিক-অসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পদমর্যাদা বৃদ্ধি ও ব্যাপক পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছি। সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়েছে। গণকর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের ৬০ বছর করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও সশস্ত্রবাহিনীর ঝুঁকিভাতা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের উন্নয়নে কাজ করছে। বেদে, হরিজন, দলিতসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নঁওয়া হয়েছে। চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে

দুর্নীতি দমনে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করেছি। কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন

গনমাধ্যমে স্বাধীনতা প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন ৩২টি টেলিভিশন, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালাসহ তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছি। সাংবাদিকদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের সফলতা

ক্রীড়াঙ্গনের সফলতার কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, গত বছরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা পাকিস্তান, ভারত,  দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করেছি। আমাদের মেয়েরা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হয়। জাতীয় নারী ক্রিকেট দল জায়গা করে নিয়েছে আগামী বছরের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।

ছিটমহলে ৬৮ বছরের মানবেতর জীবনের অবসান

সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শান্তি এবং সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী।  ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন পথ রচনায় সক্ষম হয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। এ বছর ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমানা চুক্তি অনুমোদিত হয়। ফলে ৫২ হাজার ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে। ছিটমহল বিনিময়ে ১০ হাজার ৫০ একর জমি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যোগ হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটান এই চার দেশের মধ্যে মোটর ভেহিক্যাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি ‘ব্র্যান্ড নেম’। এটি আমাদের জন্য গৌরবের।

সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে শান্তিপূর্ণভাবে ২৩৩টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় এই নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছেন, জঙ্গি ও পেট্রোল বোমাবাজদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেজন্য জনগনকে ধন্যবাদ জানাই।

২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশ

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বলেছিলাম, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করব। ইতোমধ্যেই আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো।

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের স্মৃতি ভুলবার নয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে যে সন্ত্রাস ও নির্যাতন চালায় তা কোনওদিন ভোলা যাবে না। তাদের এই নৃশংসতা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হায়েনা ও তাদের দোসরদের নির্মমতার সঙ্গেই কেবল তুলনা করা যায়।

নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও সহিংসতার ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি জামায়াত জোট সারাদেশে সন্ত্রাস ও  সহিংসতা করেছিল। এসব সন্ত্রাস বোমাবাজি উপেক্ষা করে সেদিন আপনারা গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন।  কিন্তু গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিএনপি জামায়াত নেতৃত্ব সহ্য করতে পারে না। মানুষ শান্তিতে থাকবে, হাসি মুখে জীবনযাপন করবে তা ওদের সহ্য হয় না।’

বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাসীরা বিচারের আওতায়

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারাবিশ্বে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোল মডেল, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা যখন বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ডিজিটাইজেশন, এমডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জন, জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও পুরস্কারে ভূষিত করছে, তখনই ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জামাত আবারও দেশে সন্ত্রাস, সহিংসতা শুরু করে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং বিএনপি নেত্রী আদালত হাজিরায় অনুপস্থিত থাকার লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সারাদেশে তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘জনগণকে ভোগান্তিতে রেখে, অমানবিক কষ্ট দিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন করে খালেদা জিয়া নাটক করে ৬৮ জনকে নিয়ে আরাম আয়েশে ৯২ দিন অফিসে থাকেন। হত্যাযজ্ঞ ও তাণ্ডবের হুকুম দেন। তার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনসমর্থন পায়নি। ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়ে নাকে খত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি জামাতের সন্ত্রাসীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিচার কাজ চলছে। যারা আপনাদের আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে, ক্ষতি করেছে সেই অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।’

 

/ইএইচএস/পিএইচসি/এফএস/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম