X
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

১৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দে খুলনার খাল-নদী বাঁচবে তো?

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২১, ২১:১৩

নিয়মিত খনন বা ড্রেজিং তো হচ্ছেই না, উল্টো যে যার মতো ব্যবহার করছে ময়ুর নদীকে। অবাধে ফেলছে মলমূত্র, বাজার ও গৃহস্থালীর বর্জ্য। পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী নদীর পানিতে ডিও (ডিজেবল অক্সিজেন) থাকার কথা ৫ ভাগ বা তার বেশি। কিন্তু ময়ুর নদীর ৩টি পয়েন্টে পাওয়া গেছে ২.৬, ০.৩ ও ৪.১ ভাগ ডিও। যা নদীর স্বাস্থ্য ও জলজ প্রাণের জন্য হুমকি।

পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক (ল্যাব) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, অক্টোবরের রিপোর্টে ময়ুর নদীর ৩টি পয়েন্টের মধ্যে জলমা শ্মশান ঘাট এলাকায় বিওডি (বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড) আছে ১.৬। কিন্তু মানমাত্রা অনুযায়ী থাকার কথা ১০। পশুর নদীর কাজিবাছা এলাকায় বিওডি আছে ২.৭। যা প্রমাণ করে পশুর নদীর পানিও দূষণের কবলে।

তিনি আরও জানান, গত আগস্টে ময়ুর নদীর ৩টি পয়েন্টে ডিও ছিল ৬.৬, ০.০ ও ৩.২। এই ৩টি পয়েন্টে গত জানুয়ারিতে ডিও ছিল ০.৬৪, ১.০ ও ১.৪৮।

১৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দে খুলনার খাল-নদী বাঁচবে তো?

পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, খুলনা জেলায় ৪১টি ছোটবড় নদী ও ৩৭৭টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি নদী ও খালের আংশিক পুনঃখনন কাজ শেষ পর্যায়ে। ৬২টি নদী ও খালের ১৭১ কিলোমিটার পুনঃখননের প্রস্তাব করা হয়েছে।

দূষণমুক্ত করতে হলে আগে দখল উচ্ছেদ করে পানির প্রবাহ সচল করা জরুরি। সে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, হামকুড়া, মরা ভদ্রা, তালতলা, বাগআঁচড়া নদী ভরাট হয়ে গেছে। ঝপঝপিয়া, শিবসা, গ্যাংরাইল, তেলিগাতীর আংশিক ভরাট হয়েছে।

নদী দখলমুক্ত করতে নানা কার্যক্রম চললেও দূষণমুক্ত করার তৎপরতা নেই। এই নদীতে জলজপ্রাণী বেঁচে থাকার মতো দ্রবীভূত অক্সিজেন মানমাত্রা অনুযায়ী না থাকায় নদীতে মাছও পাওয়া যায় না। বিভিন্ন এলাকার ২০টিরও বেশি নালার বর্জ্য সরাসরি পড়েছে এতে।

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ময়ুর নদীর অবৈধ স্থাপনার তালিকা করতে ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন, কেসিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কেডিএ ও ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে তিনমাস জরিপ করে নদী ও এ সংলগ্ন ৫৪টি খাল (নগরীর ২২টি খাল) দখল করে নির্মাণ করা ৩৮২টি স্থাপনার তালিকা চূড়ান্ত করে। ৪৬০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব স্থাপনা ও নদীর জমি দখল করেছে। ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্ছেদ অভিযান হয়।

কেসিসির সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমাদের লোকজন ময়ুর পরিদর্শন করেন। কেউ দখলের চেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে গৃহবর্জ্যসহ অন্যান্য ময়লা পানিও এ নদীতে মিশছে।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ বলেন, জলাবদ্ধতা কাটাতে প্রকল্পের আওতায় ময়ুরসহ কয়েকটি খাল পুনঃখনন করা হবে। আগামী বছর এই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক সাইফুর রহমান খান বলেন, নদীর পানিতে ডিও'র মাত্রা প্রতি লিটারে ৬ মিলিগ্রামের নিচে নেমে গেলে ছোট মাছ বাঁচে না। ময়ুর নদীতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই ডিও থাকে শূন্যের ঘরে।

মহানগরীর তিন দিক নদী বেষ্টিত। নগরীর পাশে রূপসা, ভৈরব, কাজীবাছা নদী। ভৈরব ও রূপসার দুই তীরে ফিস প্রসেসিংসহ ৫৩টি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র আছে ৪০টির। এ সব প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্যও নদীগুলোর পানিতে মিশছে। অধিদফতরের ছাড়পত্র পাওয়া কারখানার বর্জ্য শোধন করে রূপসায় ফেলার নিয়ম থাকলেও খরচ বাঁচাতে অনেক প্রতিষ্ঠানই তা করছে না। নগরীর দৌলতপুর-খালিশপুর এলাকায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর তিনটি তেলের ডিপো ধোয়া-মোছার পর সেই তেলযুক্ত পানি সরাসরি চলে যাচ্ছে ভৈরবে। পরিবেশবিদদের মতে ভেসে থাকা তেলের কারণে সূর্যের আলো নদীর পানির নিচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। যার কারণে মাছ ও জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের পোনার নার্সারি গ্রাউন্ডও ধ্বংস হচ্ছে। আবার সিটি করপোরেশনের ড্রেনের পানিও কোনও ধরনের শোধন প্রক্রিয়া ছাড়া সরাসরি নদীতে পড়ছে।

১৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দে খুলনার খাল-নদী বাঁচবে তো?

পরিবেশবাদী বেসরকারি সংস্থা বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহাফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ইনভায়রনমেন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি)’র ছাড়পত্র ছাড়া নদীর দু’পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। কিছু প্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকলেও খরচের ভয়ে ওটা ব্যবহার করা হয় না।

কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘নদী ও খাল রক্ষায় ১৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এখন করপোরেশনের বাইরের নদী-খাল রক্ষায় আলাদা প্রকল্প প্রয়োজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড তা বাস্তবায়ন করবে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের জরিপে শহরের ২২টি ও আশপাশের ৫৪টি নদী-খাল শনাক্ত করা হয়। সিটির ২২ খাল-নদী রক্ষায় তিনশ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০১৩ সালে আমি নির্বাচিত হতে পারিনি। তারপর ৫ বছর কী কাজ হলো জানি না। ২০১৮ সালে আবার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই তিনশ’ কোটি টাকার কাজের দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এখন নতুন করে ১৪শ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।’

/এফএ/
সম্পর্কিত
খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের ইউপি প্রার্থী যারা
খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের ইউপি প্রার্থী যারা
মোদি-মমতার জন্য আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
মোদি-মমতার জন্য আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
আজও করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু খুলনাতে
আজও করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু খুলনাতে
২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের মৃত্যু খুলনাতে, ২৩ জন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে
২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের মৃত্যু খুলনাতে, ২৩ জন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের ইউপি প্রার্থী যারা
খুলনা ও বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগের ইউপি প্রার্থী যারা
মোদি-মমতার জন্য আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
মোদি-মমতার জন্য আম পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
আজও করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু খুলনাতে
আজও করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু খুলনাতে
২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের মৃত্যু খুলনাতে, ২৩ জন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে
২৪ ঘণ্টায় ৩০ জনের মৃত্যু খুলনাতে, ২৩ জন করে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে
আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু খুলনায়
আবারও সর্বোচ্চ মৃত্যু খুলনায়
© 2022 Bangla Tribune