দীর্ঘদিন এ দিনটিরই অপেক্ষায় ছিলেন শামসুন্নাহার। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধামন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুলিশ সপ্তাহের প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্যারেড শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কথা জানান।
শামসুন্নাহার বর্তমানে চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আছেন।
শামসুন্নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাকরি জীবনে হোক আর ব্যক্তি জীবনেই হোক, একটি বাহিনীর প্যারেড কমান্ডার হওয়া সবার জন্যই গৌরবের। সব সময় সবার ভাগ্যে তা জোটে না।’
তিনি জানান, ২০০৮ সালেও তিনি পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডের উপ-অধিনায়ক ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকায় সেদিন তার কমান্ডার হওয়ার সুযোগ ছিল না।
২০তম বিসিএস-এর মাধ্যমে শামসুন্নাহার পুলিশে যোগ দেন। বিসিএস-এ প্রথম পছন্দ ছিল পুলিশ। মেয়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তার কর্মজীবনে তিনি দেখেছেন- এ কাজে কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। কোনও অসুবিধা নেই। সবারই এমন একটি সুযোগের জন্য অপেক্ষায় থাকা উচিৎ।
শামসুন্নাহারের প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে নতুন মাইলফলক হিসেবে এটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।
মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ সপ্তাহের এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাবসহ পুলিশের ১৩টি দলের সহস্রাধিক সদস্যের প্যারেডে নেতৃত্ব দেন শামসুন্নাহার।
ফরিদপুরের মেয়ে শামসুন্নাহার চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। প্যারেড অনুষ্ঠানে তার বাবা সামছুল হক ওরফে ভোলা মাস্টার ও মা আমিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ও এমফিল পাশ করে স্কলারশিপ পায় যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখান থেকে তিনি এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
/এফএস/








