X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
২০ আষাঢ় ১৪২৯

কক্সবাজারের উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ১৫:৩৬

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কক্সবাজার এত চমৎকার একটা জায়গা—এটা পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা একান্তভাবে অপরিহার্য। কক্সবাজারবাসীর কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে, যত্রতত্র কোনও স্থাপনা করবেন না। কক্সবাজারে আমরা অনেক প্রকল্প নিয়েছি। একটা মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ দিয়েছি পুরো কক্সবাজার ঘিরে। আমরা চাই এর উন্নয়নটা যাতে পরিকল্পিতভাবে হয়।’

বুধবার (১৮ মে) কক্সবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরই হবে আন্তর্জাতিক আকাশ পথে রিফুয়েলিংয়ের জায়গা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত দূরদর্শী নেতৃত্ব ছিল, আপনারা দেখেন, ১৯৭৪ সালে তিনি সমুদ্রসীমা আইন করেন। এমনকি জাতিসংঘও কিন্তু তখন করেনি। জাতিসংঘ করেছে ৮২ সালে। কিন্তু ১৯৭৪ সালে এই বিশাল সমুদ্রে আমাদের যে অধিকার রয়েছে, সে অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জাতির পিতা এই আইনটি করে দিয়ে যান। আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫ সালে নির্মমভাবে তাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা এই সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার নিয়ে কখনোই কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর আমি প্রথম এই উদ্যোগটা গ্রহণ করি। কিন্তু এটা নিতে গেলে অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কাজ করতে হয়। আমরা অনেক দূর কাজ করে যাই। কিন্তু এরপরে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আমরা দেখেছি, তখনও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২০০৮-এর নির্বাচনে সরকারে এসে আমরা আবার উদ্যোগ নিই। সমুদ্রসীমায় আমাদের যে অধিকার, সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন এই সমুদ্র সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের অর্থনীতিতে যাতে অবদান রাখা যায়, সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। তাই আমরা সুনীল অর্থনীতি গ্রহণ করেছি। এর ভিত্তিতে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের এই যে বিশাল সমুদ্রসীমা রয়েছে, এটাতে পর্যটনের ক্ষেত্রটা আরও প্রসারিত করা, আবার দেশীয় পর্যটকদের জন্য যেমন সুযোগ সৃষ্টি করা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় করা, সেই উদ্যোগটাই আমরা নিতে চাচ্ছি। তাছাড়া এটা আন্তর্জাতিক এয়ার রুটে পড়ে। আমরা কক্সবাজারে যে বিমানবন্দর সেই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ করছি। এই বিমানবন্দরটা যখন হবে তখন আপনারা জানেন যে আজকে যারা পশ্চিমা দেশ থেকে প্রাচ্যের দেশে যায়, তারা কিন্তু এই কক্সবাজার থেকে রিফুয়েলিং করবে।’

তিনি বলেন, ‘কারণ, রিফুয়েলিং কিন্তু একেক সময় একেকটা দেশ অগ্রাধিকার পায়। একসময় হংকং ছিল। এরপরে আমরা দেখেছি থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর। এখন দুবাই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কক্সবাজারই হবে আন্তর্জাতিক আকাশ পথে রিফুয়েলিংয়ের একটা জায়গা। তার ফলে এখানে অনেক কাজ হবে। আমরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম করেছি। সেখানে ফুটবল স্টেডিয়াম হবে। সেখানে অন্যান্য খেলাধুলার পুরো ব্যবস্থাটা নেওয়া হবে। যেকোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এখানে যাতে হতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমরা নিচ্ছি।’

কক্সবাজার প্রান্তে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার।

 

/ইএইচএস/আইএ/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
পদ্মা সেতুতে মায়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল জয়-পুতুল
পদ্মা সেতুতে মায়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল জয়-পুতুল
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
মেঘনা গ্রুপের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
মেঘনা গ্রুপের কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
হাট কাঁপাবে ‘টাঙ্গাইলের সম্রাট’
হাট কাঁপাবে ‘টাঙ্গাইলের সম্রাট’
এ বিভাগের সর্বশেষ
পদ্মা সেতুতে মায়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল জয়-পুতুল
পদ্মা সেতুতে মায়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল জয়-পুতুল
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের পাশে নেতাকর্মীরা
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের পাশে নেতাকর্মীরা
সড়কপথে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সড়কপথে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী