X
শনিবার, ২৫ জুন ২০২২
১১ আষাঢ় ১৪২৯

কোন জেলায় কত ত্রাণ

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ১৫:২৫

সিলেট, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে ১২টি জেলার ৭০টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও এখনও তলিয়ে আছে হাজার হাজার একর জমি, বাড়িঘরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। আক্রান্ত হয়েছেন দেড় কোটির বেশি মানুষ। জেলা প্রশাসনের তদারকিতে বন্যার্তদের জন্য কাজ করছে বেসরকারি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ তিন বাহিনী। আনসার পুলিশও বসে নেই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্লাবিত জেলাগুলোতে যাচ্ছে ত্রাণ। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

১৬ জুন পানির প্রবাহ বাড়তে থাকে। কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ কয়েকটি জেলায় বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্যও ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ বরাদ্দকৃত ত্রাণ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুই জেলায় বন্যার্তদের সরকারিভাবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ১০ লাখ টাকা ও ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, বন্যাকবলিত জেলাগুলো হচ্ছে— রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল। এর মধ্যে— সুনামগঞ্জে ৭০ হাজার ও সিলেটে ৩০ হাজার মানুষ। আরও অনেক মানুষ এখনও পানিবন্দি।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০ জুন নেত্রকোনার জন্য আরও একশ মেট্রিক টন চাল, নগদ টাকা ও শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।  ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেত্রকোনার জন্য আরও একশ মেট্রিক টন চাল, দশ লাখ নগদ টাকা এবং তিন হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, দেশের ১১টি জেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ১৭ মে থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ১২০ মেট্রিক টন চাল, তিন কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ৬৮ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সিলেট জেলায় এক হাজার দুই শ মেট্রিক টন চাল, এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং ২৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় ৭২০ মেট্রিক টন চাল, এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং ১৭ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট রয়েছে।

নেত্রকোনা জেলায় একশ মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট, রংপুর জেলায় তিন হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। নীলফামারী জেলায় ৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। কুড়িগ্রাম জেলায় ১০ লাখ টাকা এবং এক হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। হবিগঞ্জ জেলায় ১০ লাখ টাকা এবং ২ হাজার শুকনো অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। মৌলভীবাজার জেলায় একশ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং ২ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। শেরপুর জেলায় ১০ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। জামালপুর জেলায় ৪ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। কিশোরগঞ্জ জেলায় ২ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট।

সিলেটে বন্যায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ও প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেটের ক্ষতি আংশিক নিরূপণ করা গেলেও সুনামগঞ্জের কোনও হিসাবই পাওয়া যায়নি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসেবের বরাত দিয়ে জানিয়েছে,  জেলায় এখন পর্যন্ত হাঁস-মুরগিসহ ৩ হাজার ১৮৯টি গবাদিপশু মারা গেছে। জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সিলেট জেলায় ৭১০টি খামার ডুবে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৯৯১ টন খড় ও ২ হাজার ৯৫৯ টন ঘাস। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

তবে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের হাতে পর্যাপ্ত বীজ আছে। বীজের সংকট হবে না। পানি নেমে গেলেই বীজতলা তৈরি করতে পারবো।

কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মাঠে ধান জাতীয় কোনও ফসল নেই। তাই এ ধরনের ফসলের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। বন্যায় এ পর্যন্ত ৫-৬ হাজার হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি হয়েছে। সিলেটে ২২ হাজার হেক্টর ও সুনামগঞ্জের ২৮ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গে ৫৬ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বানের পানি গ্রাস করেছে ১২টি জেলার ৭৫টি উপজেলার সব সড়ক, বেড়িবাঁধ এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট। পানিতে ভেসে গেছে বাড়িঘর। সিলেটের ৬০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং আগামীতে আরও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, এখনও বন্যার্তদের উদ্ধারের কাজ করছি। সেখানে সেনাবাহিনীসহ সবাই যুক্ত রয়েছি। বন্যার পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করবো।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, যদিও বন্যার পানি কমছে। কিন্তু এখনও হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজে হাত দেবো। বন্যার্ত মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে এসে তাদের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করাই প্রধান কাজ।

/এমএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
উদ্বোধন মুহূর্তে যাদের স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
উদ্বোধন মুহূর্তে যাদের স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সমাবেশস্থলে জনস্রোত
রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সমাবেশস্থলে জনস্রোত
এই সেতু দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাবো: পিয়া জান্নাতুল
গৌরবের পদ্মা সেতুএই সেতু দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাবো: পিয়া জান্নাতুল
পদ্মা সেতু: অসম্ভবকে সম্ভব করার রূপকথা
পদ্মা সেতু: অসম্ভবকে সম্ভব করার রূপকথা
এ বিভাগের সর্বশেষ
এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি, ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ
এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি, ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ
সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলর’র ত্রাণ বিতরণ
সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলর’র ত্রাণ বিতরণ
সিলেটে বন্যার পানি থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার
সিলেটে বন্যার পানি থেকে কিশোরের লাশ উদ্ধার
‘বন্যার্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সবই করছে র‌্যাব’
‘বন্যার্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সবই করছে র‌্যাব’
বন্যায় আরও ৫ জনের মৃত্যু
বন্যায় আরও ৫ জনের মৃত্যু