বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা এ অঞ্চলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং এখানে কানেক্টিভিটি ভালো হলে বিনিয়োগ বাড়বে ও বাজার সম্প্রসারিত হবে। ত্রিদেশীয় সহযোগিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব একমত পোষণ করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) হলে গোটা অঞ্চলের উপকার হবে।
বুধবার (১৭ মে) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট হলে 'হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর: বাংলাদেশ, জাপান, ভারতের ত্রিপাক্ষিক অংশীদারত্বে নতুন সম্ভাবনা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন একথা বলেন। সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান এবং ভারতের এশিয়ান কনফ্লুয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক সব্যসাচী দত্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এনএসইউ'র রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন এবং এনএসইউ'র এসআইপিজির অধ্যাপক মো. শহীদুল হক।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কোনও সন্দেহ নেই ত্রিদেশীয় অংশীদারত্ব নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে। আমাদেরকে প্রকল্প বা দেশভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে বিষয়টিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।
তিনি জানান যে ত্রিদেশীয় সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অনেক উন্নতি করতে পারে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের একটি সক্ষমতা রয়েছে। এরসঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর যখন চালু হবে তখন কার্গো ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এই সক্ষমতার একটি অংশ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো, নেপাল ও ভুটানের কার্গো ব্যবহার করতে পারে। সামগ্রিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং লজিস্টিক খাতের আয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জিডিপিতে ১ শতাংশের ওপর অবদান রাখতে পারে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে।
মেট্রো রেল-৬ এবং আড়াইহাজারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল জাপানের সহযোগিতা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগ-বি’র অধীনে মাতারবাড়িতে তারা বড় বিনিয়োগ করছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশে ও ভারতের স্থিতিশীলতা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান তিনি।
এসআইপিজির অধ্যাপক মো. শহীদুল হক বলেন, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল। ত্রিদেশীয় সহযোগিতায় বাংলাদেশে, ভারত ও জাপানের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ উদ্ধার হবে বলেই এই সহযোগিতায় তারা রাজি হয়েছে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ত্রিদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে আন্তঃসীমান্ত শিল্প ভ্যালু চেইন ও কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি পাবে।
ভারতের এশিয়ান কনফ্লুয়েন্সের নির্বাহী পরিচালক সব্যসাচী দত্ত বলেন, এ অঞ্চলকে ’ল্যান্ড-লিঙ্কড’ ও ’ওয়াটার-লিঙ্কড’ হিসাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) হলে এ অঞ্চলে বড় পরিবর্তন আসবে এবং এখানকার মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়বে।









