তিন কারণে পিছিয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নেওয়া উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্প। ২০১৬ সালে নেওয়া প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালে। তৃতীয় দফার সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে— সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে একটি উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম এবং উদ্যোক্তাবান্ধব সংস্কৃতি তৈরির লক্ষ্যে সরকার ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মেধাসম্পদ সংরক্ষণ এবং সংযোগ তৈরি করা সহজ হবে। একইসঙ্গে তরুণ উদ্ভাবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে আইডিয়া শনাক্ত করা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকাশের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করাও সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, দেশের উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থে উদ্ভাবনী আইসিটি পণ্য বা সেবা তৈরি, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ, ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়তা প্রদান এবং ইন্টারোপরেবল ডিজিটাল ট্রান্সজেকশন প্ল্যাটফর্ম (বিনিময়) বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপমেন্ট (হাসিনা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস) নতুন ফিচার অন্তর্ভুক্তি, প্রি-সিড পর্যায়ের অতিরিক্ত ৫০০টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদানের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনুদানের সুফলভোগী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি— এই তিন কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্ধারিত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই নির্ধারণের জন্য অনুমোদন চেয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রস্তাব পাঠিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। এরপর একনেক ওই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে দায়িত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল জানিয়েছে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৪৪২ কোটি ৮২ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে। ২০১৬ সালে নেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে নেওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। এরপর তৃতীয় দফায় ব্যয় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়,যা একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য অনুদান (প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট) বাস্তবায়নসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের। ফেব্রিকেশন ল্যাবসহ আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম কেনা হবে। পরামর্শক সেবা ও গবেষণার সুযোগ বাড়বে। প্রকল্পটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)৫০ কোটি টাকা বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত আছে।
সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটি সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে— মানবসম্পদ উন্নয়ন, আইসিটি শিল্পের প্রসার, মেধাসম্পদ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বাজারকেন্দ্রিক স্টার্টআপের সফলতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে যুবকদের ক্ষমতায়নের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এরই প্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমিয়াকে শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপস ও শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়নকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
একনেকে অনুমোদন চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে— প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম এবং উদ্যোক্তাবান্ধব সংস্কৃতি তৈরি করে আইসিটি পণ্য ও সেবা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদান করা সম্ভব হবে। এ কারণে বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজনে তৃতীয় দফায় সংশোধন প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উদ্ভাবনী সংস্কৃতিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।









