এটিএম জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেন জিজ্ঞাসাবাদে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচিত কোনও কোনও পুলিশ সদস্যের কথা বলেছেন। যাদের তিনি চিনতেন, জানতেন এবং যাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি পিওটর বিজ্ঞ আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেটাই গ্রহণযোগ্য। সেই জবানবন্দিতে যদি কোনও পুলিশ সদস্যের নাম আসে, তা যাচাই বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
এটিএম জালিয়াতির সঙ্গে কোনও পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত কিনা? কোনও পুলিশ সদস্যকে শাস্তিযোগ্য বদলি করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়নি। ডিএমপিতে এমনিতেই প্রতিদিন অনেক পুলিশ সদস্য বদলি হয়। এটি রুটিন ওয়ার্ক। তারপরও আসামিদের স্বীকারোক্তিতে যদি কারও নাম আসে, তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সে যেই হোক না কেন।’
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটিএম জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রধান আসামি পিওটর ও আরও একজন আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে জবানবন্ধির কপি আমরা এখনও পাইনি। আমরা যতদূর জানি, তারা স্বীকার করেছেন কিভাবে তারা জড়িত। আর কারা জড়িত এসব তথ্য তারা দিয়েছেন। এছাড়াও আমাদের কাছে কিছু দালিলিক প্রমাণও রয়েছে। কোনও কোনও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার দালিলিক প্রমাণও পেয়েছি। তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা চলছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম শোনা যাচ্ছে তবে দালিলিক প্রমাণ পাইনি, তাদের চিহ্নিত করার বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কোনও কোনও প্রবাসী বাঙ্গালির নামও আসছে। সেক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তাদের ইন্টারপোল, দূতাবাস ও হাইকমিশনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘আমরা ছয়-সাতজনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। কিছু নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নাম আসছে। যার ব্যক্তিবর্গ এর সঙ্গে জড়িত। এছাড়া ২২-২৩ টি প্রতিষ্ঠান জড়িত। যাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে দালিলিক প্রমাণ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ৬ থেকে ১২ ফ্রেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীর গুলশান, মিরপুরের কালশী ও বনানী এলাকার ইস্টার্ন, সিটি ও ইউসিবির চার এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে কার্ড জালিয়াতি ও পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের অজান্তে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তা জানাজানি হয় ১২ ফেব্রুয়ারি।
কার্ড জালিয়াতির এ ঘটনায় ওইদিনই বনানী থানায় মামলা করে ইউসিবি। পরে গত সোমবার রাজধানীর পল্লবী থানায় আরও একটি মামলা করে সিটি ব্যাংক।
/এআরআর/এপিএইচ/







