জনপ্রশাসন সংস্কার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন— তারা চান ভবিষ্যৎ জনপ্রশাসন হতে হবে জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত এবং নিরপেক্ষ। এরমধ্যে সর্বোচ্চ রায় জনবান্ধব প্রশাসনের বিষয়ে পড়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মতামত একটি অংশে সন্নিবেশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য দরকার মেধাভিত্তিক নিয়োগ। এজন্য দরকার কঠোর পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন, আইনের শাসন। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে জনপ্রশাসনকে মুক্ত রাখার জন্য কী দরকার— এবিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৮.৮৮ শতাংশ মনে করেন, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন থাকতে হবে। এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নৈতিক অনুশীলন ও আইনের শাসনের কথাও বলেছেন তারা।
একইসঙ্গে তারা মনে করেন, জনপ্রশাসনে দুর্নীতি দূর করার জন্য দরকার কঠোর শাস্তির বিধান (১৫.৪৪ শতাংশ), স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা (১৩.২৪ শতাংশ), দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী কমিটি (১০.২৯ শতাংশ), সৎ কর্মচারীদের পক্ষে থাকা (৯.৫৬ শতাংশ), এবং বেতন কাঠামো উন্নীতকরণ (৮.০৯ শতাংশ)।
শিক্ষার্থীদের মতে, জনপ্রশাসনের সেবার কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য দরকার সুষ্ঠু নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং সেটা কঠোর পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে হতে হবে। ৮৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী মনে করেন, বিভিন্ন সার্ভিসের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ ও কারিগরি শ্রেণি প্রার্থীদের জন্য পৃথক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা উচিত।
উল্লেখ্য, সংস্কার প্রতিবেদনের শুরুতে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এ সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় সরকার ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করে। বাংলাদেশে একটি ‘জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, নিরপেক্ষ ও দক্ষ জনপ্রশাসন’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনের আদেশে উল্লেখ রয়েছে। জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সম্যক অনুধাবন এবং যথাযথ সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন অনলাইনে এবং স্থানীয়ভাবে রাজধানী ঢাকা এবং এর বাইরে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নাগরিকদের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এদের মধ্যে রয়েছেন সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস্ অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা, সিভিল সোসাইটির সদস্য এবং সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।








