সাত লাখের কথা বলে দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক’ 

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৯আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৯

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপনের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এসব গাছ রোপনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন, “ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজারে যে রেললাইন গিয়েছে, সেটি তৈরির সময় কয়েক লাখ গাছ কাটা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সেখানে ৭ লাখ গাছ রোপন করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গাছ লাগানো হয়েছে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো। যা সত্যিই দুঃখজনক।” 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায়।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইচ্ছেমতো গাছ রোপন করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে কোন প্রকারের মাটিতে, কী ধরণের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপন করা দরকার সেই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বৃক্ষরোপনের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপন কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম-বেশি অবগত। আপনার-আমার— আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। 

“একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে আসুন, আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।”   

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এখন আর ভবিষ্যতের কোনও আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি— সর্বোপরি জন-জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনও আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।” 

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজধানীসহ সারা দেশের নগর-বন্দর এবং শহরতলীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনও বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল— এই থ্রি-আর নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।” 

তিনি বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন ছোট-বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ।” এসময় তিনি প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান যেখানে-সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট না ফেলার জন্য।  

একই সঙ্গে তিনি ঘরে কিংবা বাইরে সব সময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।” 

/এমকে/এসটি/ 
সম্পর্কিত
আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির সাধারণ কর্মী: শাহে আলম
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি
সভ্য দেশ হয়েও যত্রতত্র কলকারখানা তৈরি করা কাম্য নয়: প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি
সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি
ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে বন্যা
ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে বন্যা
ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি, মরক্কোর লক্ষ্য শুধু বিশ্বকাপ 
ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি, মরক্কোর লক্ষ্য শুধু বিশ্বকাপ 
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী
আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
৫ জনকে জীবিত উদ্ধার, মাটির নিচে চাপা পড়েছে আরও ২০ জন
৫ জনকে জীবিত উদ্ধার, মাটির নিচে চাপা পড়েছে আরও ২০ জন
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
বিমানের ওভারটাইম: কেউ ঘুমান রেস্ট রুমে, কেউ মসজিদে, মাসে গচ্চা দেড় কোটি
আলোচিত সেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ১৪ জুলাই
আলোচিত সেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় ১৪ জুলাই
ফিফার তদন্তে মিসর জয়ী হলে আর্জেন্টিনার কপালে কী ঘটবে?
ফিফার তদন্তে মিসর জয়ী হলে আর্জেন্টিনার কপালে কী ঘটবে?