পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শুরু হবে। এক বছরের জন্য তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণে তাকে দীর্ঘ সময় নিউ ইয়র্কে অবস্থান করতে হবে। তার অবর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। আর উচ্চ পর্যায়ের জেনারেল ডিবেট শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। এই অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন এবং ভাষণ দিয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অধিবেশনে অংশ নেবেন। তবে তাঁর ভাষণের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন।
ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি নিচ্ছেন না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলছে, নিউ ইয়র্কে তার সফরকে মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সরকার অনুমতি দিয়েছে। তার সফর শেষ হতে পারে অক্টোবরের শেষের দিকে। তিনি তখন দেশে ফিরে আসবেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও অন্যান্য সব বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের ওপরে অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দফতরে গোপন ব্যালটে ড. খলিলুর রহমান সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে হারিয়ে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। শামা ওবায়েদ ইসলামও পদে বহাল আছেন। ২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনিবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করবেন। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে থাকাকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম, জরুরি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয়েও অতিরিক্ত ভূমিকা রাখবেন।
এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখবেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।









