বাংলাদেশের আরও দ্রুত এগোনো দরকার: সিঙ্গাপুরের বিদায়ী কূটনীতিক

আলী আসিফ শাওন ও সাদ্দিফ ওভি
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১০আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১০

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যথেষ্ট, তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে দেশটিকে সুশাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কূটনীতির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। এমনটাই মনে করেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিশেল লি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে দায়িত্ব শেষে ঢাকা ছাড়ার আগে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ নিউজরুম ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মিশেল লি। পরে তিনি বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের নিউজরুম ও স্টুডিও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কাজের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথে আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন লি। তার উত্তরসূরি ফিলিপ ওং দক্ষিণ এশিয়ায় দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কূটনীতিক। তিনি ১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

ঢাকায় দুই বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যে থাকা ব্যবধানকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার… আপনি কিছু একটা বলবেন, তারা ভদ্রভাবে সাড়া দেবে, কিন্তু এরপর আর কিছুই হয় না। আসলে কোনো কিছুরই যথাযথ অনুসরণ হয় না। এটা খুবই হতাশাজনক।’

বাংলাদেশ সম্প্রতি সরকারি খাতে বেতন বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের উচিত আমলাতন্ত্রের কাছ থেকে আরও বেশি দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।’

রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকায় দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কূটনীতিক। তার মতে, রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতাগুলো কাটিয়ে উঠতে স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগে।

দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিশেল লী

 

ধীরগতির এফটিএ আলোচনা

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে আলোচনার ধীরগতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন লি। ২০২২ সালে আলোচনা শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দুটি বৈঠক হয়েছে বলে তিনি জানান। আগামী মাসে সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকা সফর করবেন এবং তখন এফটিএ নিয়ে তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তার মতে, এই তৃতীয় বৈঠকটি চুক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনার অগ্রগতি থমকে থাকার কারণ হিসেবে কয়েকটি অধ্যায়ের খসড়া ভাষা বাংলাদেশ এখনো সরবরাহ না করার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। প্রস্তাবিত অভিবাসী শ্রমিক অধ্যায়ের উদাহরণ দিয়ে লি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, ঠিক আছে… একটি অধ্যায়ের প্রস্তাব দিন, আমাদের একটি খসড়া পাঠান। গত বছরের মার্চে সর্বশেষ আলোচনার পর থেকে কোনো খসড়া আসেনি, আর এরই মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় হয়ে গেছে, তাই না?’

সিঙ্গাপুর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০১৮ সালে ১৮ মাসে এফটিএ সম্পন্ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে দ্রুত যে এফটিএ করেছি, সেটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। সময় লেগেছে ১৮ মাস। বিশ্বজুড়ে আমরা ২৭টি এফটিএ করেছি। তাই এ বিষয়ে আমরা কিছুটা জানি।’

বাংলাদেশকে এ চুক্তির বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে লি বলেন, চতুর্থ বৈঠকের জন্য যেন আরও এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়।

তার মতে, বিনিয়োগকারীরা শুধু বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত; এমন আশ্বাস চান না। তারা চান পূর্বানুমানযোগ্য বিধিবিধান, কার্যকর বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগের সুরক্ষা। লি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনের গত দুই বছরে আমি একজনকেও বাংলাদেশে আসতে রাজি করাতে পারিনি; এই বিষয়টিই অনেক কিছু বলে দেয়।’

বাংলাদেশের শ্রমিকদের এখনও প্রয়োজন সিঙ্গাপুরের

বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা করলেও লি বলেন, ভবিষ্যৎ বহু বছর ধরেই সিঙ্গাপুরের বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন থাকবে, যার মধ্যে বাংলাদেশিরাও থাকবেন। তিনি জানান, বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তাদের বেশির ভাগই নির্মাণ ও সামুদ্রিক খাতে কাজ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সব সময়ই একটি বাজার থাকবে। আগামী ১৫ বছর, ২০ বছর; এই প্রবাহ চলতেই থাকবে।’

তবে চলমান প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর এখন শুধু বেশি শ্রমিক নয়, বরং উচ্চতর কারিগরি দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতাসম্পন্ন কর্মী খুঁজছে। সিঙ্গাপুরের নিয়োগদাতারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে পরিচিত; এই সুবিধা সবসময় স্বাভাবিকভাবে বজায় থাকবে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব ধরে রাখা ও বাড়াতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং পুনঃপ্রশিক্ষণে আরও বিনিয়োগের পরামর্শ দেন লি।

বিনিয়োগ ও রফতানিতে নতুন সুযোগ খোঁজার পরামর্শ

সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে লি বলেন, এজন্য প্রকৃত বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রসারের কৌশলও নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, শুধু দেশীয় ব্র্যান্ডের ওপর মনোযোগ না দিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আপনারা সিঙ্গাপুরের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো চিহ্নিত করুন এবং তাদের বাংলাদেশে উৎপাদন সরিয়ে আনতে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করুন।’

এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে উদ্ভূত ফ্যাশন ব্র্যান্ড চার্লস অ্যান্ড কিথের উদাহরণ দেন তিনি। সিঙ্গাপুরের কিছু নিজস্ব তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইভাবে সিঙ্গাপুরের নিজস্ব চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ডও রয়েছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। এসব ক্ষেত্র বাংলাদেশ খতিয়ে দেখতে পারে বলে জানান তিনি।

লি বলেন, এ ধরনের অংশীদারত্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং বাংলাদেশি উৎপাদকদের প্রযুক্তি, মাননিয়ন্ত্রণ, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারে।

দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও জাতীয় দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিশেল লী

তার মতে, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু উচ্চমূল্যের ভোক্তা বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে; এমন ওষুধ ও চামড়া শিল্পের মতো খাতও এই কৌশল থেকে উপকৃত হতে পারে।

রফতানিতে মান ও ধারাবাহিকতা জরুরি

উন্নত বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বাংলাদেশকে পণ্যের মানের ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড আরও উন্নত করতে হবে বলে জানান লি। উদাহরণ হিসেবে তিনি আম ও হিমায়িত সামুদ্রিক খাবারের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিবিদেরা আমাকে বলেছেন, আপনারা সব সময় বেশি আম, হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার কেনার অনুরোধ পান। কিন্তু তাদের বলতে হবে, নিরাপত্তার মান, সংরক্ষণকাল; এসব নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশি আম মৌসুমভিত্তিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু সিঙ্গাপুরের খুচরা বিক্রেতাদের নিয়মিত সরবরাহ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনি ধরে নিতে পারেন না যে সেখানে আপনিই একমাত্র বিক্রেতা।’

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে খাদ্যপণ্য বছরজুড়ে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে লি বলেন, তবে সেগুলোর জন্য বাংলাদেশকে যথাযথ বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। উন্নত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আসিয়ানে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার আহ্বান জানান লি। তবে বাংলাদেশকে আসিয়ানের অংশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা না করার পরামর্শ দেন তিনি। লি বলেন, ‘নিজেকে আসিয়ান হিসেবে বিক্রি করার চেষ্টা করবেন না। বরং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার চেষ্টা করুন, আরও সম্পৃক্ত হন।’

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্যের তুলনায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ব্যাপকতার বিষয়টি তুলে ধরে লি বলেন, ‘আসিয়ানের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মোট বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি ৫ শতাংশ।’

ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ও বিনিয়োগের উৎস বহুমুখী করতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

‘একসঙ্গে হাঁটতে ও গাম চিবোতে শিখতে হবে’

একটি নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যুকে পররাষ্ট্রনীতিতে প্রাধান্য না দিয়ে একই সঙ্গে একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান লি। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সরকারকে বলে আসছি, আমাদের একই সঙ্গে হাঁটতে এবং গাম চিবোতে শিখতে হবে।’

তার মতে, বাংলাদেশের উচিত বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য বাজারে সুযোগ অনুসরণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, সিঙ্গাপুর চীনের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখে।

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা

মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে ঢাকা ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান লি। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সামনে দিনের বেলা আরও একটি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ পরিবেশের উদাহরণ দিতে গিয়ে লি বলেন, দেশটিতে নারী ও শিশুরা গভীর রাতেও অনুষ্ঠান করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। এমনকি কেউ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্যাক্সিক্যাবে ভুল করে ফোন ফেলে গেলেও সেটি ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সিঙ্গাপুর কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি, পানি ও জনস্বাস্থ্যে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশ চাইলে জাতীয় সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সিঙ্গাপুরের কিছু পদ্ধতি নিজেদের মতো করে বিবেচনা করতে পারে বলে জানান বিদায়ী এই কূটনীতিক।

জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত গ্যাসকূপগুলোকে কৌশলগত মজুতাগার হিসেবে পুনর্ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরামর্শ দেন তিনি। লি বলেন, ‘আমরা নিজেদের জন্য একটি কৌশলগত মজুত তৈরি করি… ছয় মাস থেকে এক বছরের সরবরাহের সমপরিমাণ। যেসব গ্যাসকূপ থেকে সরবরাহ তুলে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে সেখানে মজুত রাখা যেতে পারে।’

পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের পুরো ব্যবস্থা একবারে অনুকরণ না করে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘একটি পরীক্ষামূলক শহরে কেন একটি পাইলট প্রকল্প করছেন না… যেটিকে আমরা স্যান্ডবক্স পদ্ধতি বলি।’

জলাবদ্ধতা রোধে সিঙ্গাপুর সরকার ড্রোনের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলেও জানান লি। একসময় বৃষ্টিতে সিঙ্গাপুর শহর তলিয়ে গেলেও এখন আর তা হয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি। লি বলেন, ‘ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়নে এবং মেইনটেনেন্সের কাজে আমরা ব্যাপক বিনিয়োগ করেছি। আমরা ড্রোন, প্রযুক্তি, ক্যামেরা ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা খুঁজে বের করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। এটা খুব সহজ কাজ এবং কোনো রকেট সায়েন্স নয়। বাংলাদেশও চাইলে করতে পারে।’

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সিঙ্গাপুরের উলবাকিয়া মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং বাংলাদেশে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর উলবাকিয়া জৈবিক মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে।’

‘সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট নয়’

পুরো আলোচনাজুড়েই লি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ সুযোগের অভাব নয়; বরং বাস্তবায়নের সক্ষমতা। তার মতে, বাংলাদেশের বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, বিপুল কর্মশক্তি, ক্রমবর্ধমান উৎপাদনভিত্তি এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন দ্রুততর সরকারি সিদ্ধান্ত, বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে কার্যকর সুশাসন একটি বিস্তৃত সামাজিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নাগরিকদের জীবনমানের প্রতি ধারাবাহিক মনোযোগ। বাংলাদেশের উচিত সিঙ্গাপুরের মডেল সরাসরি অনুকরণ না করে নিজেদের জন্য নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান তৈরি করা বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
দিল্লিতে পরবর্তী হাইকমিশনার হচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম
হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা কি আদালতে টিকবে?
বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন কার্যালয় পরিদর্শনে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের সিডিএ
সর্বশেষ খবর
ভারতের ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আমিরাত
ভারতের ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আমিরাত
তিন বছর ভর্তি বন্ধ, ৮৬ ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
তিন বছর ভর্তি বন্ধ, ৮৬ ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: ঠিকাদার গ্রেফতার, প্রকৌশলী বরখাস্ত
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: ঠিকাদার গ্রেফতার, প্রকৌশলী বরখাস্ত
সরকার বাড়তি দামে এলএনজি আমদানি করছে কেন
সরকার বাড়তি দামে এলএনজি আমদানি করছে কেন
সর্বাধিক পঠিত
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, যোগদানের ২০ দিনের মাথায় এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, যোগদানের ২০ দিনের মাথায় এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে
‘শিগগিরই চার টুকরোয় ভাঙবে উত্তর প্রদেশ’
‘শিগগিরই চার টুকরোয় ভাঙবে উত্তর প্রদেশ’
গুলশান থেকে আ.লীগের তিনবারের এমপি গ্রেফতার
গুলশান থেকে আ.লীগের তিনবারের এমপি গ্রেফতার