শিক্ষকতা পেশা ‘উপায়হীন বিকল্প’ হতে পারে না, শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৬ আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৬

শিক্ষকতা পেশা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা একটি সাধারণ চাকুরীর মতো হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের শিক্ষক সমাজ বিশেষ করে স্কুল-মাদ্রাসার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ এবং সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ 

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারিবারিক পাঠশালার গন্ডি পার হওয়ার পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষকেরাই হচ্ছেন আদর্শ বা রোল মডেল। শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন বর্তমান সরকার সে ধরণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এই সময়ে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি এবং ব্যাবহারিক শিক্ষা বিকল্পহীন হয়ে উঠেছে। তাই ‘শিখন’ এবং ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং শিক্ষা সিলেবাসের আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক হাতে পাচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘মুখস্থ করার চেয়ে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’— এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে জাগিয়ে তোলা জরুরি। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেও নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় বর্তমান সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই স্কুলের সিলেবাস আধুনিকায়ন করেছে।’   

তিনি বলেন, ‘‘শিখন’ কৌশল হিসেবে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ সারা বিশ্বেই, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণীয় হয়ে উঠেছে। আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ষষ্ঠ শ্রেণির’ শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে একটি নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই এ ধরণের উদ্যোগ। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও এই বই দেওয়া হবে।’ 

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকার এমন একটি সময়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করছে, যখন শিক্ষাব্যবস্থার সামনে একদিকে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। এআই জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে বর্তমানে কারিগরি এবং ব্যবহারিক জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আরও আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে। 

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে ‘শিক্ষকের’ বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এই লক্ষ্যেই আমরা ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিচ্ছি। একজন শিক্ষক তার ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্ন ব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনও শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের যেকোনও পর্যায় থেকে কেউ কোনও কারণে ড্রপআউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয় সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি। আপনারা দেখেছেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।’ 

দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে বাজেট আরও বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি অনেক বড়। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা অস্বীকার করতে পারি না দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় সুযোগের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে এখনও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে শহরাঞ্চল কিংবা গ্রামাঞ্চল— সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাই যাতে দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মমুখী শিক্ষা প্রয়োজন তবে আমাদেরকে এটিও মনে রাখতে হবে, একটি কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন অবশ্যই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে। সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা এবং অন্যের প্রতি সম্মান— এসব মূল্যবোধ আমাদের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষা-শিক্ষিকাগণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’ 

/এমকে/এসটি/ 
সম্পর্কিত
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে: মাহদী আমিন
১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা পদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তান টেস্টের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন শান্ত
আফগানিস্তান টেস্টের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন শান্ত
মঙ্গলবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, থানায় জিডি
মঙ্গলবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, থানায় জিডি
ঢামেকে বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু
ঢামেকে বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দির মৃত্যু
শাকিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা মনে নেই পরীমণির
শাকিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা মনে নেই পরীমণির
সর্বাধিক পঠিত
২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?
২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?
ওরা তোকে বাঁচতে দেবে না বাবা: আমি জমি বেচে দিচ্ছি, তুই বিদেশে চলে যা
ওরা তোকে বাঁচতে দেবে না বাবা: আমি জমি বেচে দিচ্ছি, তুই বিদেশে চলে যা
২৫০ কোটি ডলারের স্টেডিয়াম নির্মাণ স্থগিত করলো সৌদি আরব
২৫০ কোটি ডলারের স্টেডিয়াম নির্মাণ স্থগিত করলো সৌদি আরব
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি
বিচ্ছেদের ঘোষণা প্রীতম ও শেহতাজের
বিচ্ছেদের ঘোষণা প্রীতম ও শেহতাজের