চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরোধিতার বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এ নিয়ে কথা বলেন।
বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারিসহ আন্দোলনের কারণে সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার যখন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে যায়, তখন সেটি রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই করা হয়। কোনও সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের স্বার্থের বিপরীতে যেতে পারে। কিন্তু সরকারের মূল বিবেচনা থাকবে বৃহত্তর জনস্বার্থ।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি নিতে চায়, তাহলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে, তাদের আশ্বস্ত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু আন্দোলনের কারণে সরকার জনকল্যাণকর কোনও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে, বিষয়টিকে আমি সেভাবে দেখি না।’
তবে বিরোধী দলে থাকার সময় বিএনপির বন্দর পরিচালনা বিদেশিদের দেওয়ার বিরোধিতা এবং বর্তমানে সরকারের অবস্থানের মধ্যে কোনও পরিবর্তন আছে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে বা অতীতে বিএনপি ঠিক কী অবস্থান নিয়েছিল, সেটি যাচাই করে পরে জানানো হবে।’
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসার পর বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারের অবস্থান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা দাম কমেছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা বেড়ে যায়। ফলে এক বা দুই দিনের বাজারদর দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে কম দাম যদি মোটামুটি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে, তাহলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক ওঠানামার পেছনে বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণও রয়েছে। তাই বিশ্ববাজারের নিম্নমুখী দাম কতটা টেকসই হয়, সেটি সরকার পর্যবেক্ষণ করবে।’
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে বলেও স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির মূল্য বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে, বিনিয়োগে চাপ পড়ে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রধান ভুক্তভোগী হন সাধারণ মানুষ।’
তিনি বলেন, ‘একটা দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে গেলে কর্মসংস্থান কম তৈরি হয়। মানুষের চাকরি হয় না, বেতন বাড়ে না। কারও কারও চাকরিও চলে যায়। এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। ফলে সরকার এ বিষয়ে সংবেদনশীল।’
বর্তমানে অক্টোবর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত রয়েছে।