পোশাক কারখানার মালিকদের ওপর বাড়তি মজুরি চাপিয়ে দিলে তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের জন্য ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি উঠেছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিমাণ মজুরি দেওয়া সম্ভব কিনা, তা বিবেচনায় নিতে হবে। মালিকেরা ব্যবসা চালাতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন দেবেন কোথা থেকে?
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশন, রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চলমান শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। অভিবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে সংসদীয় ভূমিকা জোরদার করতে এই ককাস গঠন করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিরোধিতা বা সমালোচনার জায়গা থেকে কথা বললে নেতিবাচকতা ছড়াবে। যেখানে নীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ আছে, সেখানে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। সরকার ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং এরই মধ্যে একটি বৈঠকও হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা এখন সরকারে আছেন, তারাই অতীতে শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আন্দোলন করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। যখন আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলছে, তখন আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ দুই দিনের মধ্যে মজুরি ঘোষণা এবং ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি করছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই দাবি কতটা সম্ভব, তা বিবেচনা করতে হবে। মালিকদের ওপর বাড়তি মজুরির চাপ দিলে তারা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। তখন শ্রমিকদের বেতন দেবেন কোথা থেকে?
শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রতি সরকারের সদিচ্ছার কথা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই এখন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত সাত মাসে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে আরও সময় প্রয়োজন।
মিডলম্যান ও সাব-এজেন্টদের ভূমিকা প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, সাব-এজেন্টদের একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আওতায় আনতে ইতোমধ্যে আইন পাস করা হয়েছে। অনেকে তাদের দালাল বলে থাকেন। তবে তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করতে চান না, কারণ এটি খুব নেতিবাচক শোনায়। তাঁর ভাষায়, ‘তারাই কিন্তু আমাদের এই সেক্টরটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, টিকিয়ে রেখেছে।’
তিনি বলেন, প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ লাখ মানুষ বিদেশে যান। তাদের মধ্যে সরকারিভাবে যান মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার। বড় অংশই যান বেসরকারিভাবে। ফলে এই খাতে মিডলম্যান ও সাব-এজেন্টদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের ভূমিকাকে একেবারে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।