দেশে অব্যাহত জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দূতাবাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার পর কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ দু’একটি দূতাবাস আবেদন করেছে নিরাপত্তা ইস্যুতে। তাদের আশঙ্কা দূর করতে সার্বিকভাবেই কূটনৈতিক পাড়াসহ বিদেশিরা যেসব স্থানে অবস্থান করেন সেসব স্থানে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব ছাড়াও প্রতিরাতেই কূটনৈতিক এলাকায় বিজিবি টহল দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত সেপ্টেম্বরে গুলশানে তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলো। কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সতর্কভাবে চলাচলের জন্যেও সতর্কতা জারি করেছিল। এরপর থেকে কূটনৈতিকপাড়াসহ বিদেশিদের যাতায়াত আছে এমন স্থানে ও আবাস এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করে সরকার। আমেরিকান দূতাবাসের কাছে নতুন বাজার, কানাডিয়ান হাইকমিশন, বনানী ব্রিজ, হাতিরঝিলের প্রান্তে, মহাখালী, কাকলীসহ আশপাশের এলাকার চেকপোস্টগুলোতে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের ইউটার্ন
সর্বশেষ গত ১৬ মে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী মন্ত্রী উইলিয়াম ই টড। এর আগে নিশা দেশাই বিসওয়ালও নিরাপত্তা ইস্যুতে বৈঠক করেন। রাজধানীর কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়সহ ব্লগার, লেখক ও ভিন্ন সংস্কৃতি ও মতাদর্শের ব্যক্তিদের হত্যাকাণ্ডে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিভিন্ন দূতাবাসের আশঙ্কা প্রকাশ করে চিঠিপত্র দেওয়ার পর বিদেশিদের অবস্থান আছে এমন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও মোটরবাইক, কার দিয়ে টহল দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পায়ে হেঁটেও টহল দিচ্ছেন তারা। তল্লাশি চৌকি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকি পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো সন্তোষও প্রকাশ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার বার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিলো যে, বাংলাদেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মানুষের প্রতি এরকম হামলা হতে পারে। অন্য কোনও দেশ এ বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত বা বিচলিত নয়।’
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রতি রাতেই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কূটনৈতিক এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত নিয়মিত টহল দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ওই দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য এমনভাবে দায়িত্ব পালন করছে যাতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় বিজিবির টহল থাকবে।’
আরও পড়ুন: এ বছর হজে যেতে পারছেন না প্রায় ৩৮ হাজার যাত্রী
/জেইউ/এজে








