দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করতে চায় সরকার, কিন্তু এ সম্পদ টেকসই ভিত্তিতে আহরণের জ্ঞান,দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে বাংলাদেশের।এ বিষয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া তথ্য বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ ইত্যাদি প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। চীনও বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এরইমধ্যে চীন সহযোগিতার একটি প্রস্তাবও দিয়েছে সরকারকে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
২০১২ সালে মায়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে। এরপর এ বিশাল অঞ্চলের সম্পদ কী করে টেকসইভাবে ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা, যেখানে ১৯টি দেশের ৩২ জন বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময়ে সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।
এশিয়ার ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবে খ্যাত চীনও বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সহায়তা দিতে চায় এবং সরকারকে একটি সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, উভয় দেশেরই ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা আছে এবং বাংলাদেশ উভয় দেশ থেকেই লাভবান হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে সহায়তা
গত মে মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সচিব পর্যায়ে সমুদ্র অর্থনীতি সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিভাগের সচিব মোহাম্মাদ খোরশেদ আলম এবং ভারতের পক্ষে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব [পশ্চিম] সুজাতা মেহতা নেতৃত্ব দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ বৈঠকে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া তথ্য বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমরা আবার বৈঠকে মিলিত হয়ে উভয়ের জন্য লাভজনক হয় এমন একটি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবো।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতীয় কোম্পানি ওএনজিসি এককভাবে বাণিজ্যিক চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে বঙ্গোপসাগরের অগভীর পানিতে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে।
চীনের আগ্রহ
সমুদ্র সম্পদ আহরণের জন্য বড় আকারে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী চীন এবং এ বিষয়ে তারাও সহযোগিতা প্রস্তাব দিয়েছে।
আমরা তাদের প্রস্তাবটি বিবেচনা করছি এবং বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে নাকি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে, সেটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে বলে সূত্রটি জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, চীন এ বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
তিনি জানান, এ সহযোগিতার বাইরে চীনের স্টেট ওশেনিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে, যার মাধ্যমে চীন একাধিক পিএইচডি কোর্সসহ বিভিন্ন কোর্সে স্কলারশিপ দিচ্ছে। শুধু তাইনা চীন এ বিষয়ে জ্ঞান আহরণের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করবে।
সমুদ্র সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার জায়গার ওপর সার্বভৌম অধিকার পেয়েছে। এছাড়া চিটাগাং তীর থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্র তলদেশ ও এর উপরের সকল সম্পদের মালিকানা পেয়েছে।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশের প্রায় তিন কোটি লোক বঙ্গোপসাগরের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
এসএসজেড/এপিএইচ/







