রমজানে বাজার মনিটরিংয়ের নামে যা হচ্ছে

ওমর ফারুক
০৩ জুলাই ২০১৬, ২১:৪০আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৬, ২১:৪২

রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর নবীনগর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন মিন্টুর দোকানে পুরো রমজান মাসজুড়ে গরুর মাংস ৪৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মেয়রের নির্দেশনা থামাতে পারেনি তাকে। কেননা মেয়রের নির্দেশনা কাগজে ছিল, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীতে কোনও অভিযান পরিচালনা করেনি সিটি করপোরেশন। ফলে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দাম আদায়ে কেউ ঠেকাতে পারেনি মিণ্টুকে। যদিও মিণ্টু বলেছেন, আমার কেনা গরুর কোয়ালিটি অনেক ভালো। এ কারণে ৪৪০ টাকা দরে মাংস বিক্রি না করলে পোষায় না।

মাংস ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল রমজানের আগে। বলা হয়েছিল, এবার দেশি গরুর মাংস ৪২০ টাকা, বিদেশি গরু ও মহিষ ৪০০ টাকা, খাসি ৫৭০ টাকা এবং ভেড়া ও ছাগলের মাংস ৪৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোজার প্রথম দুই-একদিন ঢাকার বেশির ভাগ বাজারে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি হয়। এরপর শুরু হয় ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতা। যাত্রাবাড়ীর মিণ্টুর মতো নানা কারণ দেখিয়ে আবারও অতিরিক্ত দাম আদায় করতে থাকেন তারা। সিটি করপোরেশনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের এ প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে এক বাজার থেকে আরেক বাজারে। মাঝে মধ্যে অভিযান হলেও এই স্বেচ্ছাচারিতা ঠেকাতে পারেনি সিটি করপোরেশন। এর ফলে অধিকাংশ বাজারেই গরুর মাংস ৪৪০ থেকে ৪৬০টায় বিক্রি হতে থাকে।

বাজার মনিটরিং, ফাইল ছবি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সংস্থার অধীন তেরটি বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম নির্দিষ্ট বোর্ডে লিখে রাখা হয়। একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় উত্তর সিটি করপোরেশনের বাজারেও। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এই তালিকা গ্রাহ্য করছেন না।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জন্য ১৪টি মনিটরিং টিম গঠন করে দেয়। এসব টিমে বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, খাদ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধিদের রাখা হয়। কিন্তু এসব কমিটি নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করলেও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
জানা গেছে, কোনও বাজারে মনিটরিং কমিটির তৎপরতা দেখার সঙ্গে সঙ্গে ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে যান। এ কারণে কমিটি দু’একজনকে জরিমানা করা ছাড়া কিছু করতে পারেনি। ফলে কমিটির বাজার ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্য মূল্য আবারও চড়ে যায়।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কয়েকটি বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। দেখা গেছে, মেয়র যেখানেই অভিযানে গেছেন, সেখানেই সাময়িকভাবে জিনিসের দাম কমেছে। মেয়র চলে যাওয়ার পর দ্রব্যমূল্য আগের মতো হয়ে যায়। এরপরও অতিরিক্ত দাম রাখায় হাতিরপুলের অভিযানে তিন মাংস ব্যবসায়ীর জরিমানা হয়। কাপ্তানবাজারের অভিযানে মেয়র দাম সঠিক পেলেও ওজন মাপার যন্ত্রে ত্রুটি ধরে ফেলেন। ত্রুটি যন্ত্র দিয়ে মাংস মেপে ক্রেতাদের ঠকিয়ে আসছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (বাজার সার্কেল) ইউসুফ আলী সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি কমিটি নিয়মিত বাজার মনিটরিং করেছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সেখানেই দোষীদের ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়।

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রেকর্ড ভর্তুকি, মানুষের জীবনযাত্রা কতটা সহজ হবে?
রেকর্ড ভর্তুকি, মানুষের জীবনযাত্রা কতটা সহজ হবে?
ভালোবাসেন, নাকি শুধু অভ্যাসেই আটকে আছেন—বুঝবেন কীভাবে?
ভালোবাসেন, নাকি শুধু অভ্যাসেই আটকে আছেন—বুঝবেন কীভাবে?
মৃত আগ্নেয়গিরির পেটে ফুটবল মাঠ
মৃত আগ্নেয়গিরির পেটে ফুটবল মাঠ
মমতা বনাম ঋতব্রত: দল কার, আইনসভা কার 
মমতা বনাম ঋতব্রত: দল কার, আইনসভা কার 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি