বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানাননি মীর কাসেম

Send
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:০৮, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫২, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৬

মীর কাসেম আলী

প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেমের জানানোর কথা ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু, মাঝ রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি এ ব্যাপারে এদিন মুখ খোলেননি। কারা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে নতুন কোনও তথ্য নেই তাদের কাছে।     

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের দায়িত্বরত জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো আপডেট নেই। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার নতুন কোনও খবর নেই।’ পরে রাতেও একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে কারাসূত্র।

এদিকে, সর্বশেষ তথ্য পাওয়ার আশায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাশিমপুর কারাগারের ফটকের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। তবে নতুন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় রাত ৯টার পর কারাফটক ত্যাগ করেন অধিকাংশ গণমাধ্যম কর্মী।

এদিন মীর কাসেম আলীর সঙ্গে তার পরিবারের কোনও সদস্য সাক্ষাতের জন্য আসেননি। তবে অন্য কয়েদিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের রুটিন সাক্ষাৎ করেছেন। তবে সাংবাদিকদের কারাগারের ভেতরে ঢোকার কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার কর্তৃপক্ষ  প্রাণভিক্ষার বিষয়ে মীর কাসেম আলীর কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে ভাবার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কাশিমপুর কাগারের সামনে অপেক্ষারত সাংবাদিকরা

মীর কাসেমের পরিবার সদস্যরা সর্বশেষ বুধবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘মার্সি পিটিশন (প্রাণভিক্ষার আবেদন) করবেন কিনা এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত মীর কাসেম আলী এখন দেবেন না। তার পরিবারও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না।’

খন্দকার আয়েশা খাতুন তখন আরও বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর দাবি, গত ২২ দিন আগে সাদা পোশাকধারী লোকজন তাদের ছেলে ব্যারিস্টার আহম্মেদ বিন কাসেমকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি শুধু ছেলেই নন, তার মামলার আইনজীবীও। তাই পারিবারিক যে কোনও সিদ্ধান্তে পরামর্শের জন্য পরিবারের লোক হিসেবে তাকে প্রয়োজন।’

আয়েশা খাতুন এ সময় ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করে বলেন,‘আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানাচ্ছি, আগে আমাদের ছেলেকে চাই।’

ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তিন শিশুসহ পরিবারের ৯ জন সদস্য মীর কাসেম আলীর সঙ্গে কারা অভ্যন্তরে ঢুকে সাক্ষাৎ করেন। দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা কারগার থেকে বের হন।

এর আগে বুধবার সকালে তাকে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়।

৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন। গ্রেফতারের পর ২০১২ সাল থেকেই তিনি এ কারাগারে রয়েছেন। ২০১৪ সালের আগে তিনি এ কারাগারে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় ছিলেন। ফাঁসির রায় হলে তাকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়।

/টিএন/

লাইভ

টপ