ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার দায় স্বীকার করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ দায় স্বীকার করে নেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি চালকও নই, গাড়ির মালিকও নই। এরপরও মন্ত্রী হিসেবে আমার নৈতিক দায়দায়িত্ব রয়েছে। এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষ মারা গেছে। মন্ত্রী হিসেবে সরকারের পক্ষে তার দায়দায়িত্ব আমি অকপটে স্বীকার করছি।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঈদে শত শত মানুষ মারা যাওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে ১৫৩ জন মারা গেছে। এরপরও বলব এটা অনেক প্রাণ। আমি তো বলেছি, মাছির মত, পাখির মত মানুষ মারা গেছে।’
চলতি বছরের প্রথম আটমাসের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বুয়েটের একটি জরিপে বলা হয়েছে এ বছর প্রথম আটমাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছিল। কিন্তু ঈদের সময় হঠাৎ করে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। আমি অবাক বিস্ময়ে দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনায় এ প্রাণহানি। তবে ঈদের পর আবার এই মৃত্যুর হার কমে এসেছে।
কাজী ফিরোজ রশীদের এ সংক্রান্ত অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা কঠোর শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। আইনে পরিবারপ্রতি গাড়ি সীমিত করার বিধান হচ্ছে। দুর্ঘটনার জন্য যারা দায়ী হবে তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। আজ (রবিবার) সংসদে আইন উঠছে। আশা করি আগামী অধিবেশনে এটা পাস করতে পারব।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় যে শত শত লোক মারা যাচ্ছে তার জন্য দায়ী কে জানিনা। কেউ বলে চালকের দোষ। চালকরা বলেন রাস্তার দোষ, আবার বলা হয় জনগণের দোষ। আমরা দেখি গাড়ির ফিটনেস নাই, ব্রেক নাই, লাইসেন্স নাই।
বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনাপ্রবণ ২২৭টি স্থান (ব্ল্যাক স্পট) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮টি ব্ল্যাক স্পটের প্রতিকারমূলক কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি ব্ল্যাক স্পটের প্রতিকারমূলক কাজ শুরু হয়েছে। অবিশষ্ট ১৪৪টির প্রতিকারমূলক কাজের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৪৮টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ৭০টি চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন হবে।
অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ পদ্মা সেতুর কার্যক্রম সারা জাতির কাছে দৃশ্যমান হবে।
/ইএইচএস/এইচকে/








