সোমবার রাতেও ডিসিসি মার্কেটের সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। রাতে ব্যবসায়ীরা যখন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন তখনও তারা জানতেন না তাদের জন্য এমন ভয়াবহ ঘটনা অপেক্ষা করছে। হঠাৎ করেই এমন অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে তাদের। রাত ২টার দিকে মার্কেটে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দোকান মালিক, কর্মচারিরা চলে আসেন। তবে আগুনের জন্য মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেননি। তাইতো মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে দেখছেন আগুনে সব শেষ হওয়ার দৃশ্য। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীদের দাবি আগুনে তাদের কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গুলশান কাঁচাবাজারে ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামক। আগুনে সব হারিয়ে ফেলা এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি ৩২ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। সারা জীবনের পুঁজি শেষ হয়ে গেল। রাত ৪টার সময় এসে দেখি ধসে পড়া ভবনটিতে আগুন জ্বলছে। কিভাবে কি হলো, কিছু বুজতেছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার মাল ছিল। পাইকারি ও খুরচা বিক্রি করতাম। দোকানের ক্যাসেও এক লাখ ২২ হাজার টাকা ছিল।’
শামসুর আলম বলেন, ‘আমি বিভিন্ন পার্টির কাছ থেকে বাকিতে মাল নিয়ে আসি। পার্টি টাকা পাবে। কোনও কিছুই বাঁচাতে পারলাম না।'
এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘কাল রাত (সোমবার) ৯টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। কিভাবে আগুন লাগছে তা বুঝতেছি না।'
কান্না জড়িত কণ্ঠে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমার সন্তানের লেখা-পড়া এবং আমাদের রিজিক সব এই দোকানের ওপর ছিল। আমাদের কি হবে?’
মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে রুনা আহমেদ নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘৪০ লাখ টাকা লোন নেওয়া আছে। পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। রাত ৩টা থেকে মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ভেতরে প্রবেশ পারছি না। চোখের সামনেই সব পুড়ে যাচ্ছে।’
রিয়াদ ক্রোকারিজ স্টোরের ম্যানেজার মো. মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৬ বছর ধরে দোকানের মালিক রিয়াদ এখানে ব্যবসা করেন। আমি ১০ বছর ধরে এই দোকানের ম্যানেজার। আমরা সবাই পথে বসে গেলাম। এটি পরিকল্পিত আগুন। আল্লাহ ওদের বিচার করবে।’
সোমবার রাত আড়াইটায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করছে। এরই মধ্যে মার্কেটের কাঁচাবাজারের তিনতলা ভবনটি ধসে পড়েছে। তবে হতাহতের কোনও খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
/এসটি/







