হিলারি ক্লিনটনসহ অন্যদের সঙ্গে লবিং করে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. মুহম্মদ ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের কোনও এক স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদক আর উনি মিলে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করেন। হিলারি ক্লিনটনসহ এদের সকলের সঙ্গে লবিয়িং করে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলো। বলা হলো দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে।’
বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির এ কে এম মাঈদুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
আইনের আশ্রয়ে গিয়ে উনি (ড. ইউনূস) এমডির পদ হারিয়েছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ওনাকে সরাইনি। তিনি মামলায় হেরে গেছেন। মামলা করার পরামর্শদাতা ছিলেন ড. কামাল হোসেন ও তার মেয়ে। আইনের কারণে ওনার এমডি পদ চলে গেলো। এরপর উনি আমাদের ওপর ক্ষেপে গেলেন। সেই ক্ষ্যাপাটা পড়লো পদ্মা সেতুর ওপর। ’
গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূস সম্পর্কে মাঈদুল ইসলামের প্রশ্নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্য যার কথা বলেছেন, উনি ওই ব্যাংকের এমডি ছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। প্রতিমাসে সরকারি বেতনই তিনি নিতেন । ব্যাংকের আইন অনুযায়ী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এমডি থাকা যায়। কিন্তু ওই এমডি যখন ৭০ বছর পার করেছেন, তখনও তিনি এমডি ছিলেন। যার কারণে আমাদের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী ও আমার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার কাছে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন এমডি পদে আপনি আইনত থাকতে পারেন না। আপনাকে উপদেষ্টা এমিরেটাস হিসেবে সম্মান দেবো। আপনি পদটি ছেড়ে দেন। কিন্তু তিনি তা না মেনে কোর্টে গিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। কিন্তু আইন তার পক্ষে না থাকায় তিনি দুটো মামলায়ই হেরে গেলেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী আমার ওপর সম্পূর্ণ দোষটা দিলেন ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার অনুরোধে হিলারি ক্লিনটন আমাকে ফোন দিলেন। তাকে এমডি পদ থেকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি বললাম, বাদতো আমরা দিচ্ছি না। উনি মামলায় হেরে গেছেন।’
গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় এলে উনি আমার কাছে এসে বললেন- একটি ফোন দিলে পরে এর থেকে যে লভ্যাংশ আসবে তা গ্রামীণ ব্যাংকে যাবে। সেখান থেকে সাধারণ মানুষ ঋণ সুবিধা পাবে। তখন গ্রামীণ ব্যাংকটা দাঁড়াবে। সত্যি কথা বলতে ওনার কথাটি আমি বিশ্বাস করলাম। আর গ্রামীণ ফোনের ব্যবসা আমরা তাকে দিলাম।’
সংসদ নেত্রী বলেন, ‘দুঃখের বিষয় গ্রামীণ ফোনের যে শেয়ার বাংলাদেশের থাকার কথা তার বেশিরভাগ তিনি বিদেশে দিয়ে ওটাকে সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি করে নিয়েছেন। এটা চিটিংবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। ৩০ ভাগ মালিকানা নিজের হাতে রেখে বাকিটা উনি বেচে দিয়েছেন। ’
ড. ইউনূসের সম্পত্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (ড. ইউনূস) তো ট্যাক্সও দেন না। তার যে ফিক্সড ডিপোজিট আছে। এটারও ট্যাক্স দেন না। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনি। এখানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি এটা দেখবেন। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’
পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তির স্বার্থে রাজনীতি করি না। জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করি। লুট করে নিয়ে নিজের ভাগ্য গড়বো- এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা আমাদের নেই। মানসিকতাও নেই। আমরা জনগণকে সব বিলিয়ে দেওয়া শিখেছি। সেখানে আমার দেশের একটি উন্নয়ন হবে- সেই উন্নয়ন খাত থেকে টাকা বানাতে হবে এই চিন্তাতো একেবারেই মাথায় নেই। অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। সেই এলাকার মানুষের জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রকল্প যখন নিলাম। সেই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক নিজেরাই আগ্রহী হয়ে আসলো। তারা বিশাল অংকের টাকা দেবে বলে আমাদের মতামত দিলো। তারপরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে আমার ছেলে মেয়ে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কিছুই বের করতে পারলো না। আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। বিশ্বব্যাংকের টাকায় আমরা পদ্মা সেতু করবো না। পদ্মা সেতু বন্ধ হওয়াতে তারা মহাখুশী। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মা সেতু করছি।’
ওয়ান ইলেভেনের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় ছিল খালেদা জিয়া, আর সবার আগে গ্রেফতার করলো আমাকে। আমার ওপর বেশি বেশি জুলুম চললো। এজন্য ইয়াজউদ্দিন সরকারকে ওই ব্যক্তি ডবল এ প্লাস দিয়ে দিলেন। তারপর উনি একটি দলও করতে গেলেন। সেই সম্পাদক সাহেব আর উনি মিলে দল গঠন করবেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হলেন। কারণ সুদখোরের ডাকে কেউ সাড়া দেয়নি, এটা হলো বাস্তবতা। আমরা মুখ খুলি না। কারণ কিছু বলতে গেলে সব দোষ আমার ওপরে পড়ে।
/ইএইচএস/এপিএইচ/
আরও পড়ুন: বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সার্চ কমিটি প্রধান








