বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিচার প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিদেশি দূতাবাসগুলো।
বাংলাদেশে যুক্তরাজ্য দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে ই-মেইলে লিখেছেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার মামলার বিচার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছি। একইসঙ্গে রায়ের জন্য অপেক্ষায় আছি। আইনকে সম্মান করা ও সহিংসতা পরিহারের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।”
এদিকে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ নিয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করবো না।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাসও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সেখানকার একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংসদ থেকে ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা সফর করবে। তখন তারা এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারে।’
ওই কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাংসদদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকের কথা রয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এই রায় তার বিপক্ষে গেলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ তার জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান হচ্ছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনও ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সর্বনিম্ন দুই বছরের কারাদণ্ড হলে ও মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর না গেলে প্রার্থী হওয়া যাবে না।
তবে বিচারিক আদালতের রায় যদি স্থগিত করে আপিলের জন্য আপিল আদালত গ্রহণ করে তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ওই অনুচ্ছেদ বাধা নয়।
এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এটি দায়ের করা হয়। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
ওই অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।
২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ বিষয়ে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। মামলায় বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী ও তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়।








