পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তায় ১৫ উদ্যোগ

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৯:৫৭, এপ্রিল ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৫, এপ্রিল ০৮, ২০১৮

মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৪২৪পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষের দিন) দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ১৫টি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ১৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে সরকারের স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, তথ্য, পররাষ্ট্র, গণপূর্ত, স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ এর অধীনস্ত ২০টি সংস্থা। এগুলে হচ্ছে—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ,  পুলিশ সদর দফতর, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সব ডিআইজি,  র‌্যাব, ফায়ার সর্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সব পুলিশ সুপার, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা ওয়াসা, কারা অধিদফতর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর-দক্ষিণ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। 

বাংলা নববর্ষের দিন জানমালের নিরাপত্তায় সরকার যে সব উদ্যাগ নিয়েছে সেগুলো হচ্ছে—রমনার বটমূল এলাকা, মঙ্গল শোভাযাত্রা, কূটনৈতিক এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট, টিএসসি এলাকাসহ দেশব্যাপী বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলোয় ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বর্ষবরণ এলাকাগুলোয় সুপেয় পানি সরবরাহ করা, গাড়ি পার্কিং, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও ময়লা আবর্জনা ফেলতে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন রাখা হবে। তাৎক্ষণিক কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে প্রস্তুত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স। ইভটিজিং বন্ধে থাকবে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের কন্ট্রেল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হবে।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানগুলোয় ঢাকায় বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ কূটনৈতিক এলাকাগুলোর প্রতি বিশেষ নজরদারি থাকবে। জেলখানাগুলোয় থাকবে উন্নতমানের বাংলা ঐতিহ্যবাহী খাবার। কয়েদিদের অংশগ্রহণে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রমনা পার্ক ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের আশপাশের লেকগুলোয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিদল মোতায়েন রাখা হবে। অগ্নিনির্বাপণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। রাজধানীর অনুষ্ঠানস্থলগুলোয় বিশেষ করে রবীন্দ্র সরোবর সহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, চারুকলা ইনস্টটিউট এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। থাকবে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা। রমনা পার্ক ও  সোহরাওয়ার্দী  উদ্যানে প্রবেশ পথে থাকবে একাধিক গেট।  ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান বা তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলা নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে দেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য বৈশাখী মেলা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উৎসবসহ নানা ধরনের প্রদর্শনীতে সার্বিক নিরাপপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় কমিশনার,  দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ, সব বিভাগের পলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা। 

সূত্র জানায়, আগামী ১১ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সেপ সাউথ এশিয়া -২০১৮ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে ১২০ জন বিদেশি ঢাকায় অবস্থান করবেন। তারা সবাই মঙ্গলশোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।পুরো এলাকা ক্লোজ সর্কিট ক্যামেরার (সিসি টিভি) আওতায় থকবে। রমনা বটমূলের আশপাশে মেডিক্যাল টিম নিয়োজিত থাকবে। 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সর্বজনীন অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ উদাযাপনে কোনও ধরনের টাইম ফ্রেম থাকা ঠিক নয়। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে প্রতিবছর ঘরে আটকে থাকার একই আদেশ আর ভালো লাগে না। দিনের অনুষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তা দিতে পারলে সন্ধ্যার পরের অনুষ্ঠানগুলোয় কেন নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে না?’

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করতে নগরবাসীসহ দেশব্যাপী নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি ও সংস্থা এ লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাজধানীসহ দেশব্যাপী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বিকাল পাঁচটার মধ্যে শেষ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যদিও কোনও ধরনের নাশকতার হুমকি নেই বা আশঙ্কাও করছি না, তবু এ সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, বিকাল ৫টার পর ঘরে ফিরে গিয়ে পরিবার পরিজনকে সময় দেওয়ার জন্য।’

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ