সরকারি চাকরিতে কোটা পূরণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে কোটার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এ নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম খান এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে গত ৬ মার্চ কোটা সংক্রান্ত যে নির্দেশনা জারি করেছিল তাতে বলা হয়, ‘সকল সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটার কোনও পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে সেই সকল পদ মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের মধ্য হইতে পূরণ করিতে হইবে।’
এই আদেশের বিষয়ে ৫ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়। সেই পরিপত্রে কোটা বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রণালয় থেকে গত ৫ এপ্রিল জারি হওয়া পরিপত্রে বলা হয়-
(ক) ১ম ও ২য় শ্রেণির পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে:
(১) ১ম ও ২য় শ্রেণির পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বিষয়ে সরকারের গত ৫ মে, ২০১০ তারিখের পরিপত্র অনুসরণপূর্বক বিশেষ কোটার অধীন কোনও জেলার বিতরণকৃত পদের সংখ্যা হইতে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা কম হইলে উক্ত বিশেষ কোটার অপূর্ণ পদসমূহ জাতীয় ভিত্তিক স্ব-স্ব বিশেষ কোটার (অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ) জন্য প্রণীত জাতীয় মেধা তালিকা হইতে পূরণ করিতে হইবে।
(২) উক্ত সিদ্ধান্ত অনুসরণের পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার কোনও কৃতকার্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে উক্ত পদগুলো অবশিষ্ট কোটা অর্থাৎ জেলার সাধারণ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করিতে হইবে।
(৩) উপরোক্ত পদ্ধতিদ্বয় অনুসরণ করিবার পরও কোনও বিশেষ কোটার (মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ) পদ পূরণ করা সম্ভব না হলে অপূরণকৃত সে সকল পদ জাতীয় মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করিতে হইবে।
(খ) ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে:
৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ কোটার (মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, এতিম ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য) কোনও পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে অপূর্ণ পদসমূহ জেলার প্রাপ্যতা অনুযায়ী স্ব-স্ব জেলার সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য হইতে মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করিতে হইবে।
(গ) কোটা সংক্রান্ত বিদ্যমান অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে
মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া এই পরিপত্রের অস্পষ্টতার কারণেই সারাদেশে কোটা পদ্ধতি নিয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, ‘মেধা কখনই অবহেলিত হয়নি। কোটার কারণে কোনও মেধাবী কখনোই বঞ্চিত হয়নি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই কোটা পদ্ধতি রাখা হয়েছে। সংবিধানে বলা আছে, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আনতেই এই কোটা পদ্ধতি।’







