টিকিটের জন্য লোকারণ্য কমলাপুর

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৩:০৬, জুন ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৪, জুন ০৬, ২০১৮

টিকিটের জন্য লোকারণ্য কমলাপুরঈদে অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন আজ। এদিন বিক্রি হচ্ছে ১৫ জুনের টিকিট। ১৬ জুন ঈদ অনুষ্ঠিত হলে এটি তার আগের দিনের। রাজধানীবাসী প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ট্রেনের টিকিটের জন্য রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছেন। আর এ কারণে মঙ্গলবার (৫ জুন) রাত থেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিটের জন্য স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষ। টিকিট প্রত্যাশীদের পদচারণায় এখন কমলাপুর স্টেশন লোকারণ্য হয়ে পড়েছে। তবে স্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন, রোজা ৩০টি হলে আগামী ১৬ জুন বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন চালু থাকবে।

বুধবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, স্টেশনের কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রতিটি কাউন্টারেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে পুরো স্টেশন এলাকা। প্রতিটি কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের লাইনের শুরু দেখা গেলেও শেষ কোথায় গিয়ে মিলেছে তার ঠিক নেই।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫ জুনের একটি টিকিটের জন্য মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। রাতে যারা এসেছেন তাদের প্রায় সবাই সকাল ১১টার মধ্যে টিকিট পেয়েছে। আর যারা দিনে এসে দাঁড়িয়েছেন লাইনে তাদের সিরিয়াল অনেক পেছনে হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত টিকিট পাননি। এখনও লাইনগুলোতে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছেন।

টিকিটের জন্য লোকারণ্য কমলাপুরকমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজও একযোগে ২৬টি কাউন্টার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। যাত্রীদের প্রচুর চাপ রয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারাও যথেষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন। কোনও ধরনের কালোবাজারি নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোজা ৩০টি হলে আগামী ১৬ জুন বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন চালু থাকবে। ১৫ জুন যদি চাঁদ দেখা না যায় তাহলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কতটি ট্রেন চলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশেষ ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। যেমন তিস্তার টিকিট নেই। এর বিপরীতে দেওয়ানগঞ্জের বিশেষ ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।’

রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিট প্রত্যাশী রাজিব হোসেন। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত রাত সাড়ে ১০টায় কাউন্টারে এসেছি। তখনও দেখি লাইনের সামনে ৩০ থেকে ৪০ জনের অবস্থান। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টিকিট পেয়েছি। এখন বাসায় যাচ্ছি। সারা রাত মশার কামড়ে ঘুম হয়নি।’

জোহান নামে একজন টিকিট প্রত্যাশী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে কাউন্টারে অবস্থানরত আমার এক বন্ধুকে ফোন করে জানতে পারি তখনই মানুষের দীর্ঘ ভিড় শুরু হয়েছে। সেজন্য আর টিকিটের জন্যই যাইনি।’

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে সাত বন্ধু মিলে রাত ৩টায় ৭ নম্বর কাউন্টারের সিরিয়ালে এসে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা ইকবাল উদ্দিন। তারা আজ সকাল ৯টায়ও টিকিট পাননি। কিছু সময়ের মধ্যে টিকিট পাবে, সে আশায় লাইনে অপেক্ষা করছেন তারা। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সারা রাত অনেক কষ্ট হয়েছে। তবে উপভোগও করেছি।

এদিকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষার পর যখন কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পান তখনই খুশিতে মেতে ওঠেন টিকিট প্রত্যাশীরা। এমনই একজন সাহাব উদ্দিন। তিনি লালমনিরহাটে যাওয়ার টিকিট প্রত্যাশী। বেলা ১১টার দিকে লালমনি এক্সপ্রেসের টিকিট পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদে গ্রামের বাড়ি যাবো। ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি। মাত্র টিকিট পেলাম। অনেক আনন্দ লাগছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করবো।’

সার্বিক বিষয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিন। সকাল ৮টা থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজকে দেওয়া হচ্ছে ১৫ জুনের টিকিট। প্রতি যাত্রীকে চারটি করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে আজকে মোট ২৭ হাজার ৪৬০টি টিকিট বিক্রি হবে। যতক্ষণ কাউন্টারে টিকিট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্রি হবে।’

/এসএস/এআর/চেক-এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ