অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের দায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অর্থদণ্ড

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪২, অক্টোবর ০৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৯, অক্টোবর ০৩, ২০১৮

বিমানসৌদিআরবগামী চার যাত্রীর কাছ থেকে ট্রাভেল ট্যাক্স বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দায়ে বিমান বাংলাদেশ  এয়ারলাইন্সকে ৬০ হাজার টাকা জরিমান করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। একইসঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বুধবার (৩ অক্টোবর) সিলেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ও অভিযোগকারী যাত্রীর উপস্থিতিতে সাতবার শুনানি শেষ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ এ রায় দেন।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের  অভিযোগ দেন আমিনুর রহমান ফাহিম নামের সিলেটের এক যাত্রী। অভিযোগ থেকে জানা যায়, সৌদি আরবে ওমরাহ হজ করতে আমিনুর রহমান ফাহিম তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৭ জানুয়ারি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে চেক ইন করতে যান।  ওই সময় বোডিং কাউন্টারে থাকা বিমানের কর্মকর্তারা ফাহিমকে জানান, তার টিকিটের ক্লাস পরিবর্তন করতে হবে সেলস কাউন্টারে গিয়ে।  ফাহিম সেলস কাউন্টারে গেলে সেখানে জানানো হয় প্রতি টিকিটে ১১ হাজার ৪৩১ টাকা করে ৪ জনের জন্য মোট ৪৫ হাজার ৭২৪ টাকা দিতে হবে। সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গেলে এ ভাড়া দিতে হবে বলেও জানায় সেলস কাউন্টার। যা ওমরাহ হজ ছাড়া অন্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।  ওমরাহ ভিসা ও ওমরাহ ছাড়া অন্য ভিসার ক্ষেত্রে কেন ভাড়ার তারতম্য তার কারণ জানতে চাইলেও যাত্রীকে কোনও ব্যাখা দিতে পারেননি বিমান কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে টিকিট কেনার সময় এ ধরনের নিয়মের কথাও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন যাত্রী ফাহিম।  সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার ৭২৪ টাকা দিয়ে ওমরা  করতে চলে যান তারা। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওমরাহর ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিলেট-জেদ্দা ওয়ানওয়ে জনপ্রতি ৩৬ হাজার টাকা ভাড়া নেয়। কিন্তু ওমরাহ ছাড়া অন্য ভিসার যাত্রীদের ক্ষেত্রে ভাড়া নেয় ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। হজের ক্ষেত্রে সরকার ভাড়া নির্ধারণ করে। ওমরাহ হজের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও ভাড়া নির্ধারণ না করলেও বিমান অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

এ প্রসঙ্গে যাত্রী আমিনুর রহমান ফাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘আমি সেলস কাউন্টার, সিলেটে বিমানের ম্যানেজারের কাছে সহায়তা চেয়েও কোনও সহায়তা পাইনি। বিমানবন্দরে গিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সৌদিআরবে যেতে হয়েছে। অথচ টিকিট কাটার সময়ও আমাকে জানানো হয়নি, ওমরাহ হজের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া দিতে হবে।’

আমিনুর রহমান ফাহিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা মনগড়া তথ্য দিয়ে আমাকে ৪৫ হাজার ৭২৪ টাকা অতিরিক্ত দিতে বাধ্য করেছেন।  এছাড়া,  ওমরাহ ভিসা থাকার পরও আমাদের থেকে  ট্রাভেল ট্যাক্স বাবাদ ১২ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়েছিল। যদিও সরকার ওমরাহ হজের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ট্রাভেল ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রীর অভিযোগ ছিল, বিমান বাংলাদেশ  এয়ারলাইন্স অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। এ কারণে ৬০ হাজার টাকা জরিমান করা হয়েছে।’

 

/সিএ/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ