উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৭:৫৯, মার্চ ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:০১, মার্চ ১০, ২০১৯


উপজেলা পরিষদ নির্বাচনউপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে রবিবার (১০ মার্চ) দেশের ৭৮টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা ভোটে উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হবে।

যে ৭৮ উপজেলায় ভোট হচ্ছে তাতে মোট ৮৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২০৭জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ২৪৯জন। মোট ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি।

প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতের আদেশে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং রাজশাহীর পবার ভোট বন্ধ করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটানোর অভিযোগে লালমনিরহাটের আদিতমারী, নেত্রকোনার পূর্বধলা ও সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভোট একদিন আগে বন্ধ করেছে। এছাড়া জামালপুরের মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ এবং নাটোরের সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই একক প্রার্থী হওয়ায় সেখানে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না।

এবার দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জোট অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার দলের এমপিদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সিংহভাগই সরকার সমর্থিত দল সমর্থিত হওয়ায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান কমিশনের। তাদের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা।

এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তিনটি পদেই দলীয় মনোনয়নের সুযোগ থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেবল চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিতে প্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রি করলেও শেষ মূহুর্তে অবস্থান পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, বিএনপিসহ অনেকগুলো নিবন্ধিত দল অংশগ্রহণ না করার কারণে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে এই পদ দুটি উন্মুক্ত রাখে আওয়ামী লীগ। এমন কি পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয় দলটি। অন্যান্য সময়ে এসব প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও এবার সেটি ঘটেনি।

এদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কোনও ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য ইসি সচিবালয়ে একটি মনিটরিং সেল থাকবে। কোনও উপজেলায় কোনও ধরনের অনিয়ম হলে মনিটরিং সেল তাৎক্ষণিক ইসিকে তা জানাবে। ইসি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এমনকি দায়িত্বে অবহেলা করলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশন গত ৩ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম উপজেলা পরিষদের প্রথম দফায় ৮৭ উপজেলায় নির্বাচন করতে তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপের নির্বাচনে এসব উপজেলায় ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১০ মার্চ। এজন্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ ফেব্রুয়ারি এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি।

/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ