যে কারণে বিশেষ পুলিশ ফোর্স চান ডিসিরা

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ০৭:৩০, জুলাই ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৪, জুলাই ১৪, ২০১৯

পুলিশ (ফাইল ফটো)ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স নিয়োগসহ ১৬টি প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এসব প্রস্তাবের পক্ষে তারা নিজেদের যুক্তিও তুলে ধরেছেন।

বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স নিয়োগের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে কক্সবাজার, কুমিল্লা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গার ডিসিরা বলেন, প্রায়ই উন্নয়ন-আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। প্রায় ডিসিদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিরা সাক্ষাতের জন্য আসেন। তাদেরও নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। এছাড়া, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও যেকোনও সময় প্রস্তাবিত পুলিশ ফোর্স ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এছাড়া, ডিসি অফিসের বিচারিক আদালতগুলো সার্বিক নিরাপত্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ ফোর্স জরুরি।

এদিকে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বই যুগোপযোগী করার প্রস্তাব দিয়েছেন বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকরা। রাউজানে একটি নৌ-থানা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

ফেনীর জেলা প্রশাসক উপজেলায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্থাপন করার প্রস্তাব করেছেন। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা ২০১৬ এর ২৩ (ঙ) পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বইয়ের পক্ষে বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের যে বই আছে, তা ব্রিটিশ আমলের। যার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়। মাত্র চার-পাঁচ বছর ব্যবহার ও নবায়নে জরাজীর্ণ হয়ে যায় এবং ভাঁজ করতে সমস্যা হয়। প্রস্তাবিত পাসপোর্ট আকারে করা এক পৃষ্ঠায় নবায়ন ও অন্য পৃষ্ঠায় পুলিশি প্রতিপাদন, গুলি কেনা ও খরচের হিসাব লেখা যাবে। প্রতিটি বইয়ে ও পাতায় নিরাপত্তা প্রতীকসহ ক্রমিক নম্বর থাকলে লাইসেন্স জাল হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

হালদা নদীর নিরাপত্তাসহ মাছ নিধন রোধে রাউজানে নৌথানা চেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ওপর চাপ কমাতে উপজেলা পর্যায়ে আনসার ব্যাটালিয়নের প্রস্তাব দেন ফেনীর জেলা প্রশাসক। আয়কর দেওয়া ছাড়া ওয়ারিশসূত্রে লাইসেন্স প্রাপ্তি বা মালিকানা পরিবর্তনের সহজলভ্যতার কারণে ওয়ারিশ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্রের অপব্যবহার করার সুযোগ পেয়ে যাবে এবং অপকর্মের ক্ষেত্র তৈরি হবে। সেজন্য ঢাকার জেলা প্রশাসক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের  নীতিমালার পরিবর্তন চান। 

রাত্রিকালীন ও বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তার জন্য কারাগারগুলোতে ডাবল ফেইজ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক। শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার স্টেশনকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার জন্য হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, ফকিরহাট ফায়ার স্টেশনকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার জন্য বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক এবং কালিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করার জন্য লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেন। মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’, ‘মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯’- এর তফসিলভুক্ত করার প্রস্তাব দেন কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, পাবনা, হবিগঞ্জ ও নাটোরের জেলা প্রশাসক। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেন গাইবান্ধা ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব শক্তিশালী ও প্রটোকল সংক্রান্ত অযাচিত ঝামেলা কমাতে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন সহজ করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জেলা কমিটি পুনর্বিন্যাস করে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা এবং জেলা প্রশাসকদের সভাপতি করার প্রস্তাব করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারকে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাব করেছেন ওই জেলার ডিসি। সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু করতে প্রস্তাব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক। 

রবিবার (১৪ জুলাই) থেকে সচিবালয়ে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক সম্মেলন। চলবে ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। জেলা প্রশাসকদের এ সম্মেলনকে সামনে রেখে সারাদেশের জেলা প্রশাসকরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ৩৩৩টি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। যেসব প্রস্তাবনা নিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আলোচনা করা হবে।

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ